রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। আদালতের নির্দেশে জেল হেফাজত হয়েছে তাঁর। ইডি হেফাজতে থাকাকালীনই নিজেকে বারবার অসুস্থ বলে দাবী করেছেন মন্ত্রী। আজ, বৃহস্পতিবার আদালতে ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ নেন তিনি। সেখানেই কাতর কণ্ঠে তিনি বিচারকের কাছে আর্জি জানান, “স্যার আমাকে বাঁচতে দিন”। যদিও এই আবেদনের পরও জেল হেফাজত মকুব হল না তাঁর। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত জেলেই থাকতে হবে মন্ত্রীকে।
এর আগে ইডি হেফাজতে থাকার সময় নিজেকে অসুস্থ বলে দাবী করেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তাঁর বাম হাত ও পা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হ্যী যাওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন তিনি। এমনকি মৃত্যু আশঙ্কাও করেন মন্ত্রী। আজ বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্সি জেলের রিপোর্টে তাঁকে আনফিট বলেই উল্লেখ করা হয়। সেই কারণে এদিন আদালতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেন নি জ্যোতিপ্রিয়। ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ নেন তিনি।
এদিন বিচারক জ্যোতিপ্রিয়কে প্রশ্ন করেন, “আপনার কী সমস্যা হচ্ছে”? উত্তরে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানান মন্ত্রী। বলেন, “আমি আইনজীবী। কলকাতা হাই কোর্ট ও ব্যাঙ্কশাল কোর্টের সদস্য। পায়ের সমস্যা হচ্ছে। সাড়ে তিনশোরও বেশি সুগার। হাত-পা কাজ করছে না”।
এরপরই বিচারকের কাছে কাতর আর্জি করে জ্যোতিপ্রিয় বলেন, “স্যর, আমাকে বাঁচতে দিন”। তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বিচারক বলেন, “আপনি নিজেকে যখন আইনজীবী হিসেবে দাবী করছেন, তখন নিশ্চয়ই জেল এবং আদালতের এক্তিয়ার সম্পর্কে অবগত। একজন আইনজীবী হলে আপনার বুঝে যাওয়া উচিত”।
এদিন জ্যোতিপ্রিয়র আইনজীবীও তাঁর শারীরিক অবস্থায় কথা উল্লেখ করেন আদালতে। বলেন যে উনি সুস্থ নন। ওঁর কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত। সেলে খাট ও টেবিল দেওয়ার আবেদন জানান আইনজীবী। এর উত্তরে বিচারক বলেন, “এটা জেলের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে”। এদিন বিচারক অনুমতি দেন যে ইডি জ্যোতিপ্রিয়কে প্রেসিডেন্সি জেলে গিয়ে জেরা করতে পারে। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত জেলে থাকবেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী।





