‘আমি বাকিবুরকে চিনিই না, কোনওদিন দেখিইনি’, রেশন দুর্নীতিতে চালকলের গ্রেফতার হতেই বললেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক

৫৪ ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে শুক্রবার সকালে চালকলের মালিক বাকিবুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে ইডি। তাঁর কৈখালীর অভিজাত আবাসনে তল্লাশির পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ইডির অনুমান, এই বাকিবুরকে কোনও মন্ত্রী ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু সেই মন্ত্রী কে? তা নিয়ে বেশ জলঘোলা হয়েছে।

বাকিবুর গ্রেফতারের পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবী করেছেন যে বাকিবুরের সঙ্গে নাকি প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এরপর থেকেই রাজ্য-রাজনীতিতে বেশ জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

এমন আবহে এবার মুখ খুললেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এক সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, “আমি বাকিবুরকে চিনিই না। এসব বাজে কথা বলা হচ্ছে। আমার ঘনিষ্ঠ তো সবাই। রথীন ঘোষও তো আমার ঘনিষ্ঠ । এসব বাজে কথা। আমি বাকিবুরকে কখনও দেখিই নি”।

পুজোর ঠিক দোরগোড়াতেই দুর্নীতি নিয়ে তদন্তে বেশ কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে রেশন বণ্টনে দুর্নীতির আঁচ পান ইডির আধিকারিকরা। সেই সূত্র ধরেই কৈখালীতে চালকলের মালিক বাকিবুর রহমানের অভিজাত আবাসনে হানা দেয় ইডি। ৫৪ ঘণ্টা ধরে তল্লাশির পর গ্রেফতার করা হয় তাকে। বেশ কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে। এই বাকিবুরের সঙ্গেই এক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আর সেই মন্ত্রীর নাম নিয়েই আপাতত রাজ্য রাজনীতিতে চর্চার শেষ নেই।

জানা গিয়েছে, বাকিবুরের নানারকম ব্যবসা রয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, রাজ্যের নেতা-মন্ত্রী, প্রভাবশালীদের সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা। এই বাকিবুর রাজ্যে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডেও জড়িত বলে অনুমান ইডির। এই বাকিবুরের হাত ধরেই রেশন দুর্নীতিতে অনেক কালো টাকা সাদা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। তাঁর চালকল, আটামিল, বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথিও উদ্ধার হয়েছে। সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

RELATED Articles