হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’-এ কি এবার ভাঙনে’র সাইরেন? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুরসভার নোটিস, সত্যিই কি বুলডোজার নামাতে চলেছে প্রশাসন?

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বদলে যেতে শুরু করেছে প্রশাসনিক ছবিটাও। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর অবশেষে তৃণমূল সরকারের পতন হয়েছে, আর নতুন সরকার গঠন করেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, বেআইনি নির্মাণ বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না। সেই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় শুরু হয়েছে বুলডোজার অভিযান। অবৈধ নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ইতিমধ্যেই কড়া অবস্থান নিয়েছে। আর এবার সেই অভিযান ঘিরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, কারণ কলকাতা পুরসভার নোটিস পৌঁছে গিয়েছে খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-র বাড়িতে।

সূত্রের খবর, ভবানীপুর এলাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানায় পুরসভার তরফে নোটিস পাঠানো হয়েছে। একটি ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পরিবার নিয়ে থাকেন। অন্যটি ১২১ কালীঘাট রোডের বাড়ি, যা অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও কালীঘাটের ওই সম্পত্তিকে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সম্পত্তি হিসেবেও দেখানো হয়েছে বলে খবর। কলকাতা পুরসভার দাবি, ওই দুই বাড়িতে প্ল্যান বহির্ভূত নির্মাণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই কারণেই সম্প্রতি সম্পত্তির খতিয়ান ও নির্মাণ সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়েছিল।

পুরসভার তরফে পাঠানো নোটিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি অনুমতি ছাড়া অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তাহলে তা অবিলম্বে ভেঙে ফেলতে হবে। প্রশাসনের বক্তব্য, পুরসভার অনুমোদিত নকশার বাইরে কোনও অংশ তৈরি হয়ে থাকলে তা বেআইনি হিসেবেই ধরা হবে। সেই কারণে বাড়ির মালিক পক্ষকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যদি সংশ্লিষ্ট অংশ ভাঙা না হয়, তাহলে পুরসভা নিজেই ব্যবস্থা নেবে। অর্থাৎ প্রয়োজনে বুলডোজার চালিয়ে সেই অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। আর এই খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ এতদিন যাঁদের বিরুদ্ধে বিরোধীরা প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলত, এবার সেই তৃণমূল নেতৃত্বের বাড়িতেই পৌঁছে গেল আইনি নোটিস।

সবচেয়ে বেশি চর্চায় এসেছে কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)-এর প্রতিক্রিয়া। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফিরহাদ হাকিম জানান, তিনি নাকি পুরো বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাঁর বক্তব্য, নোটিস পাঠানো নিয়ে তাঁর সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা বা যোগাযোগ করা হয়নি। মেয়রের এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীদের দাবি, পুরসভার ভিতরেই এখন সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক চাপ এড়াতেই হয়তো মেয়র এই বিষয়ে দূরত্ব বজায় রাখছেন। যদিও কলকাতা পুরসভার তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

আরও পড়ুনঃ দিদির ছায়া নয়, নিজের প্রতিভা দিয়ে নায়িকা দেবপ্রিয়া বসু! নিজের মেধায় সাড়া ফেলবেন টিআরপি তালিকায়! দিদি দেবাদৃতার সঙ্গে প্রতিযোগিতার নামার আগে, কী বললেন ‘দুলারী’?

এদিকে বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তাঁর দাবি, “ফিরহাদ হাকিমকে এখন আর কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেই তিনি কিছু জানেন না।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, যদি সত্যিই নোটিস পাঠানো হয়ে থাকে, তাহলে সেটা সঠিক পদক্ষেপ। বিজেপির বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত এবং রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে তৃণমূল শিবির এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সরকার বদলের পর প্রশাসনের এই ধরনের পদক্ষেপ আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এই নোটিসের কী জবাব দেওয়া হয় এবং সত্যিই কি শেষ পর্যন্ত ‘শান্তিনিকেতন’-এ বুলডোজার পৌঁছয় কি না।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর