দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে দুর্গাপুজোর আনন্দমুখর আবহের মাঝেই ঘটে গেল এক রোমহর্ষক ঘটনা। অষ্টমীর রাতে যখন সর্বত্র পুজোর ভিড় আর ঢাকের আওয়াজ, তখনই চার দুষ্কৃতী নৃশংসভাবে আক্রমণ চালায় এক ৬০ বছরের বৃদ্ধার উপর। অভিযোগ, মুরগি চুরি করতে বাড়িতে ঢোকার পর তারা ওই বৃদ্ধাকে গণধর্ষণ করে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে দুই অভিযুক্তকে, বাকিরা এখনও পলাতক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে যখন চারিদিকে উৎসবের ভিড়, তখন অভিযুক্তরা অস্ত্র হাতে বৃদ্ধার বাড়িতে প্রবেশ করে। ছুরি, বঁটি ও বন্দুকের ভয় দেখিয়ে একে একে তিনজন বৃদ্ধাকে ধর্ষণ করে, আরেকজন বাইরে পাহারা দিচ্ছিল। ওই সময় বৃদ্ধার স্বামী চিকিৎসার জন্য বাইরে ছিলেন এবং নাতি-নাতনিরাও কেউ বাড়িতে উপস্থিত ছিল না। এই সুযোগে নির্জন বাড়িতে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা।
বৃদ্ধার আর্তনাদ শুনে প্রথমে ছুটে আসেন তাঁর মেয়ে ও জামাই। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। তাঁদের সহায়তায় দুই অভিযুক্তকে ধরে ফেলে গ্রামবাসীরা। এরপর তাদের বেঁধে রেখে চলে গণপ্রহার। খবর পেয়ে কুলতলি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধৃতদের গ্রেফতার করে। ধৃতদের বৃহস্পতিবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে জানা গেছে। বাকিদের ধরতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু করেছে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্য। দুর্গাপুজোর আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তে বিষাদে ভরে ওঠে। প্রতিবেশীরা জানান, এমন অমানবিক ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। উৎসবের সময় যখন পরিবার-পরিজন আনন্দে মেতে থাকে, তখন এই ধরনের বর্বরোচিত হামলা সমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, দিনের পর দিন এমন অপরাধ কি করে এত সহজে ঘটছে এবং কেন এর কোনও স্থায়ী প্রতিরোধ তৈরি হচ্ছে না।
আরও পড়ুনঃ Mallikarjun Kharge: গুরুতর অসুস্থ মল্লিকার্জুন খাড়গে! ভর্তি বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে!
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নির্যাতিতার চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে অভিযান চলছে। এই ঘটনার নৃশংসতা শুধুমাত্র কুলতলিই নয়, গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাকে স্তম্ভিত করেছে। পুজোর ভিড়ের মধ্যেই বাড়ির ভিতরে প্রবীণ মহিলাকে গণধর্ষণের মতো ঘটনা একদিকে যেমন মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়েছে, তেমনি সমাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন গোটা এলাকার একটাই দাবি—অভিযুক্তদের যেন কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে প্রশাসন আরও কড়া পদক্ষেপ করে।





