রামনবমীর হিংসার ঘটনায় গোটা রাজ্যে তুমুল শোরগোল পড়ে যায়। এ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও চলে। এই ঘটনার তদন্তভার NIA-কে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু এই নির্দেশে মোটেই খুশি নয় রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূলের কথায়, সাম্প্রদায়িক অশান্তি করে রাজ্যে NIA-কে আনার ছক কষেছে বিজেপি। এর পাল্টা দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও।
রামনবমীর হিংসায় NIA-কে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় বেশ চটেছেন তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। টুইট করে ক্ষোভ বর্ষণ করেন তিনি। লেখেন, “কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বিজেপিকে আড়াল করে। মুঙ্গেরবাহিনী নিশ্চিন্ত হল”। তাঁর সংযোজন, “বিজেপি ও কেন্দ্রের প্লট: প্রথমে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করো, তারপর NIA-র প্রবেশের মঞ্চ করে দাও। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি NIA দেখতে পায় না”।
এখানেই শেষ নয়, বিরোধী দলনেতাকে খোঁচা দিয়ে কুণাল লেখেন, “যেমন সিবিআইয়ের এফআইআরে নাম থাকা শুভেন্দু, বিজেপিতে যাওয়ায় CBI গ্রেপ্তার করে না”।
অন্যদিকে, এই নিয়ে রাজ্যের শাসকদলকে পাল্টা দিয়েছে বিজেপিও। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হাইকোর্টের এই নির্দেশের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে টুইট করে লেখেন, “রামনবমীর অশান্তিতে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়ে সংবিধানের রক্ষাকর্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে। মহামান্য আদালত আরও একবার রাজ্যের তথ্য গোপনের ধুরন্ধর চাল ধরে ফেলেছে। এনআইএ তদন্তের নির্দেশের জন্য ধন্যবাদ”।
প্রসঙ্গত, রামনবমীর মিছিলে হাওড়া, রিষড়া বা ডালখোলাতে যে অশান্তির ঘটনা ঘটে, তাতে রাজ্যে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। এবার সেই ঘটনার তদন্ত করবে NIA। আজ, বৃহস্পতিবার এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে এই তদন্তের সমস্ত নথি রাজ্যকে এএনআই-য়ের হাতে তুলে দিতে হবে। এই অশান্তি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট মামলা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সেই মামলার প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ দিল আদালত।





