অনশনের জেরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি জুনিয়র চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। আর জি কর হাসপাতালেই সিসিইউ-তে ভর্তি তিনি। তাঁর এই অসুস্থতা নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, অনিকেত নাকি অসুস্থতার নাটক করছেন।
প্রসঙ্গত, নিজেদের ১০ দফা দাবী নিয়ে এখনও অনশনে অনড় জুনিয়র চিকিৎসকরা। প্রথমে ৬ জ যোগ দিলেও তারপর যোগ দেন অনিকেত মাহাতো। এরপর যোগ দিয়েছেন আরও ২ জন। কিন্তু অনশনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের শারীরিক অবস্থা একেবারেই ভালো নয়। জুনিয়র চিকিৎসক অনিকেত মাহাতোর সংকটও এখনও কাটে নি।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আর জি করের সিসিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছিল অনিকেত মাহাতোকে। কিন্তু তাঁর সংকট এখনও কাটে নি, এমনটাই হাসপাতাল সূত্রে খবর। শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল হলেও তা যে কোনও মুহূর্তে খারাপের দিকে যেতে পারে। তিনি সংকটমুক্ত নন বলেই জানিয়েছে হাসপাতাল।
অন্যদিকে, বাকি অনশনকারী চিকিৎসকদের শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। জুনিয়র চিকিৎসকদের রক্তে শর্করার মাত্রা কমছে। মূত্রে মিলেছে কিটোন বডি। রক্তচাপও উঠানামা করছে বলে খবর। ফলে অনশনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের নিয়ে চিন্তা ক্রমেই বাড়ছে। তাদের শারীরিক অবস্থা যেমনই হোক না কেন, তারা নিজেদের দাবীতে অনড়।
এরই মধ্যে অনিকেতের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রসঙ্গে এক ‘সূত্র’ উদ্ধৃত করে কুণাল ঘোষ দাবী করেন, অনিকেত মাহাতো অসুস্থতার নাটক করছেন। তবে তিনি কোন ‘সূত্র’ থেকে এই খবর পেয়েছেন, তা অবশ্য জানান নি। কুণালের কথায়, “সিপিআইএমের নাটকবাজি দেখার অনিচ্ছায় আগেই ধর্মতলা থেকে আরজি করে চলে গিয়েছিল এসইউসির অনিকেত। একদিন পরে অনশনে এসে সকলের আগে অসুস্থ হওয়ার পরিস্থিতি ওঁর ছিল না”।
কুণালের এই দাবীর পরই তাঁকে চূড়ান্ত কটাক্ষ করেছেন নেটিজেনরা। কেউ কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৬ দিনেত অনশনের প্রসঙ্গও টেনেছেন। এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, “সবাই কি আর চকোলেট, চিকেন স্যান্ডউইচ খেয়ে অনশন করেন? ছেলেটা শেষ তিন মাস ধরে ফ্রন্টলাইন থেকে লড়ছে। কী অসম্ভব স্ট্রেসের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। এটা স্বাভাবিক যে ওর শরীর খারাপ হবে”।
আরও পড়ুনঃ সরকারি হাসপাতালের মহিলা চিকিৎসকদের হোস্টেলের শৌচাগারে ঢুকে হস্তমৈথুন যুবকের, উঠল ভয়াবহ অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুঙ্গে
অন্য এক নেটিজেন আবার কমেন্টে বলেন, “অনিকেত পারেনি। কারণ চকোলেট, জ্যুস, স্যান্ডউইচ সমৃদ্ধ অনশন ও করেনি। আর নাটকের তো সবে প্রথম অংশ দেখছেন। মা দুর্গার আড়ালে চারদিন তো কাটালেন। এবার জবাবদিহির সময়”। এমন নানান কটাক্ষ ধেয়ে এসেছে তৃণমূল নেতার দিকে।





