আর জি করের ঘটনার পর থেকেই সরকারি হাস্পাতাকের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে নানান প্রশ্ন। একজন তরুণী চিকিৎসক নিজের কর্মস্থলেই নৃশংসভাবে ধর্ষিতা ও খুন হয়েছেন। কেউ যদি নিজের কর্মস্থলেই না সুরক্ষিত থাকেন, তাহলে আর নিরাপত্তা কোথায় তাঁর! সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে নিরাপত্তার যখন জুনিয়র চিকিৎসকরা আন্দোলন করছেন, সেই সময় দাঁড়িয়ে আরও এক সরকারি মেডিক্যাল কলেজে এমন ঘটনা ঘটল, যার জেরে ফের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল, শুক্রবার বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মহিলা জুনিয়র চিকিৎসক ও পড়ুয়াদের হোস্টেলে। জানা গিয়েছে, গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে এই হোস্টেলে এক যুবক মুখে কালো কাপড় বেঁধে ঢুকে পড়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। হাসপাতালের হোস্টেলের নিরাপত্তা নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। এরপর হোস্টেলের বাইরে পুলিশ চৌকি বসানো হয়।
গতকাল, শুক্রবার রাতেও সেখানে পুলিশি প্রহরা ছিল। কিন্তু সেই পুলিশের নজর এড়িয়েই হোস্টেলে ঢুকে কুকীর্তি ঘটাল এক যুবক। জানা গিয়েছে, নবমীর রাতে ওই যুবক ঢুকে পড়ে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মহিলা চিকিৎসক ও পড়ুয়াদের হোস্টেলে। হোস্টেলে ঢুকে সোজা সেই যুবক চলে যায় শৌচাগারে। সেখানে গিয়ে হস্তমৈথুন করতে থাকে সে।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ে হোস্টেলে। খবর পেয়েই পুলিশ এসে আটক করে ওই যুবককে। ওই যুবকের নাম লক্ষ্মীকান্ত গড়াই। গঙ্গাজলঘাটির বাসিন্দা সে। কেন সে এই ঘটনা ঘটাল, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে হোস্টেলে যান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুনঃ এখনও কাটে নি সংকট, কেমন আছেন অনিকেত মাহাতো, বাকি অনশনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের শারীরিক অবস্থা কেমন?
বলে রাখি, গত ৯ আগস্ট আর জি করের সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয় তরুণী চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত দেহ। ধর্ষণ করে খুন করা হয় তাঁকে। সেই ঘটনায় উত্তাল হয় রাজ্য। ওই ঘটনায় এখনও আমরণ অনশন চালাচ্ছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তার দাবী তুলেছেন তারা। আর এই ঘটনার মধ্যেই ফের সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন!





