রসদ নিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্নায় বিজেপি নেতা, ছবি প্রকাশ্যে আসতেই হইচই, ‘এটাকে অরাজনৈতিক বলে?’, খোঁচা কুণালের

গতকাল, বৃহস্পতিবার প্রায় দিনভর চলেছে নবান্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের স্নায়ুযুদ্ধ। দু’পক্ষের বৈঠক আর হয়নি। জুনিয়র চিকিৎসকদের শর্ত মানতে নারাজ নবান্ন আর অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরাও নিজেদের দাবীতে অনড়। এদিন বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলনরত চিকিৎসকদের দাবীর মধ্যে রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনেছিলেন। এবার জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্নায় ‘বিজেপি যোগ’ নিয়ে সুর চড়ালেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।

এর আগে গত বুধবার কুণাল ঘোষ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মাদক পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া পামেলা গোস্বামীর ছবি প্রকাশ্যে এনেছিলেন। সেই ছবিতে দেখা গিয়েছিল এক মহিলা স্বাস্থ্য ভবনের সামনে জুনিয়র চিকিৎসকদের খাবার দিচ্ছিলেন। সেই ভিডিও পোস্ট করেই কুণাল প্রশ্ন তুলেছিলেন, ““এটা কোথাকার ছবি? ইনি কে? সোশ্যাল মিডিয়ায় যা ঘুরছে, তা কি ঠিক? ইনি যদি তিনি হন, তা হলে ইনি এখানে কেন? ইনি এলেন, না ডাকা হল? ডাকা হলে কেন হল? যদি কেউ স্পষ্ট করে ঘটনাস্থল এবং চরিত্রগুলি জানাতে পারেন, পোস্ট করবেন প্লিজ। আমি কনফিউজড”।

আর এবার ফের আন্দোলনকারীদের ধর্নায় বিজেপি যোগের সবই সামনে আনলেন কুণাল। আজ, শুক্রবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ছবি পোস্ট করে কুণাল লেখেন, “অরাজনৈতিক! জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্নায় বিজেপির যুব মোর্চার উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি সৌরভ দাস, সদলবলে”। জুনিয়র চিকিৎসকদের জন্য রসদ নিয়ে ধর্না মঞ্চে গিয়েছিলেন বিজেপির যুব মোর্চার উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি সৌরভ দাস। সেই ঘটনাকে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করলেন তৃণমূল নেতা।

এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই বেশ শোরগোল পড়েছে। নেটিজেনদের একাংশ কুণালকে বলেছেন, “আপনারও সন্তান রয়েছে, পারলে আপনিও আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান”। আবার অনেকেই কুণালের সমর্থনে জানিয়েছেন বিজেপি এই আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।

 আরও পড়ুনঃ ‘সামনে পেলে জুতোর মালা পরানোর চেষ্টা করতাম, টাকার জন্য মানুষ এত নীচে নামে?’, আর জি করের ঘটনায় আইনজীবী কপিল সিব্বলকে ধুয়ে দিলেন অধীর

প্রসঙ্গত, আর জি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার ৩৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি। এখনও কর্মবিরতিতে চিকিৎসকরা। এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য ভবনের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল তারা। নবান্নের তরফে বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হলেও গতকাল, বৃহস্পতিবার নবান্নে গিয়েও বৈঠকে যোগ দেন নি চিকিৎসকরা। তাদের শর্ত মেনে বৈঠকের লাইভ স্ট্রিমিং করতে রাজি হয়নি নবান্ন। এই ঘটনায় ভেস্তে যায় বৈঠক। এর আগে জুনিয়র চিকিৎসকদের এই শর্তকে ‘রাজনৈতিক’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও গতকাল বলেন, ‘বাইরের কারোর নির্দেশ রয়েছে’। আর এবার আন্দোলনরত চিকিৎসকদের ধর্না মঞ্চে বিজেপি যোগের ছবি সামনে আনলেন কুণাল ঘোষ।  

RELATED Articles