আর জি করের ঘটনায় এই মুহূর্তে গোটা রাজ্য তথা দেশ উত্তাল। দিকে দিকে উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়। তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে সকল স্তরের মানুষা আন্দোলন করছেন। এরই মাঝে এবার আর জি করার মামলার রাজ্যের তরফের আইনজীবী কপিল সিব্বলকে একহাত নিলেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
রাজ্যের তরফে আর জি কর মামলা লড়ছেন বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি আবার কংগ্রেস নেতাও বটে। তবে এবার নিজের দলের নেতাকেই বেলাগাম আক্রমণ করলেন অধীর চৌধুরী। সুপ্রিম কোর্টে আদালতকে দেওয়া কপিল সিব্বলের নানান তথ্যে ক্ষুব্ধ অধীর। এবার সেই ক্ষোভ থেকেই তুলোধোনা করলেন কপিল সিব্বলকে।
আর জি করের ঘটনার প্রতিবাদে রাজারহাটের চৌমাথায় অনশন কর্মসূচির ডাক দেয় কংগ্রেস। গত মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে গতকাল, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলে সেই অনশন কর্মসূচি। এদিন অনশন মঞ্চে হাজির হয়ে অনশনকারীদের ফলের রস খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করেন অধীর। এরপরই কপিল সিব্বলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমি সামনে পেলে জুতোর মালা পরানোর চেষ্টা করতাম। টাকার জন্য মানুষ এতটা নীচে নামতে পারে”?
এদিন মঞ্চ থেকে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন নিয়েও কথা বলেন কংগ্রেস নেতা। অধীরের কথায়, “এই জুনিয়র ডাক্তাররা দেখিয়ে দিয়েছে আন্দোলন কীভাবে করতে হয়। যাদের কোনও রাজনৈতিক রঙ লাগে না। কোনও রাজনৈতিক পতাকা লাগে না। কোনও নেতার দরকার নেই। হক ও বিচারের দাবী কীভাবে আন্দোলন করতে হয় সেটা তাঁরা শিখিয়ে দিচ্ছেন”।
আরও পড়ুনঃ মানিক ভট্টাচার্যের পর এবার জামিন পেলেন সারদা চিটফান্ড মামলায় বন্দি সুদীপ্ত সেন, জেলমুক্তি নাকি?
শুধুমাত্র কপিল সিব্বলই নন, আর জি কর কাণ্ড নিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একহাত নেন অধীর চৌধুরী। বলেন, “রোজই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী লোক দেখানোর চেষ্টা করছেন। দেখো, আমি চিকিৎসকদের পাশে রয়েছি। যদি মুখ্যমন্ত্রী সত্যিই সঠিক বিচার চাইতেন তাহলে তাঁর গুন্ডাবাহিনী দিয়ে হাসপাতালে হামলা চালাতেন না। পুলিশকে দিয়ে ভয় দেখানো, মঞ্চে দাঁড়িয়ে হুমকি দিতেন না। এই সব যখন কিছু কাজে দিল না, তখন নত হওয়ার ভান করছেন। যদি উনি সত্যিই বিচার চাইতেন ও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ও গরিমাকে সম্মান করতেন তাহলে জুনিয়র চিকিৎসকদের ডেকে পাঠাতেন। নাহলে উনি নিজে চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করতেন”।





