মাথায় হাত হতদরিদ্র ছাগল চাষীদের! ঝাড়গ্রামে কালবৈশাখীর দাপটে মৃত্যু ২৩টি ছাগলের!

প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন‌ও পিছু ছাড়ার নাম‌ই নিচ্ছে না। একদিকে করোনা সেইসঙ্গে লাগাতার প্রাকৃতিক বিপর্যয়। আজ আমফান তো কাল কালবৈশাখী। এইসবের মাঝেই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে ঝাড়গ্রাম জেলাতে। সোমবার বিকেলে মাঠে ঘাস খাওয়ার সময় একত্রে থাকা ছাগলের ঝাঁকে পড়ে বাজ। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হল তেইশটি ছাগলের । মাথায় হাত ওই ছাগল চাষীদের।

ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রাম জেলার এবং ওই থানা এলাকারই শালবনী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার লাউড়িয়াদাম গ্রামের লাগোয়া জঙ্গলে ঘেরা মাঠে। যেখানে অন্যান্য দিনের মতোই সকাল বেলায় ছাগলগুলিকে ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় বিধায়ক চূড়ামনি মাহাতো জানান,

“সহায় সম্বলহীন তিনটি পরিবার বর্তমানে পুরোপুরি পশুপালন নির্ভর জীবিকার ওপরেই নির্ভরশীল। তিনি আরও বলেন এঁরা ছাগল ছাড়াও বাড়িতে হাঁস মুরগি পালন করে। কারণ এখানকার মাটি কৃষিকাজের জন্য ততটা উপযুক্ত নয় আর যদিও বা কোনও কোনও জায়গায় চাষবাস হয়েও থাকে তবে সেটা এঁদের পক্ষে সম্ভব হয়না জমি নেই বলে। তাই দিনমজুরি আর পশুপালনই এঁদের একমাত্র আয়ের উৎস। জঙ্গলের গাছপালা পশুপালনের জন্য সহজ ও বিনামূল্যের খাদ্য ভান্ডার। সে কারনেই গরিব মানুষ পশুপালন করে থাকেন। এই ঘটনায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনটি পরিবার। আমি চেষ্টা করছি যাতে এঁরা ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।”

ঝাড়গ্রাম থানার শালবনি অঞ্চলের লাউড়িয়াদাম গ্রামে দুপুরে মাঠে ছাগল গুলি চড়ছিল। সেই সময় বাজ পড়ে ছাগল গুলির উপর। তেইশটি ছাগল মারা যায়।

জানা গেছে সোমবার বেলা ১ টা নাগাদ ঘন কালো মেঘ তৈরী হয়ে প্রথমে বৃষ্টিপাত শুরু হতেই ছাগলগুলো গ্রামের দিকে দৌড় দিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় বজ্রপাত শুরু হয়। যে কোনও পশুর মতই বজ্রপাতে ভয় পেয়ে যাওয়া ছাগলের দল একটি খোলা মাঠের মধ্যে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে। ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে তারা একে অপরের কাছাকাছি চলে আসে। আর ঘটনাক্রমেই সেই সময় একটি প্রবল বজ্রপাত হয় ঠিক ওই জায়গাতেই। আর তারই অভিঘাতে বেশিরভাগ ছাগলই তড়িদাহত অথবা হ্রদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে। আশ্চর্যের বিষয় ছাগলগুলির ওপর সরাসরি বাজ পড়েনি কারন কোনও ছাগলকেই ঝলসে যেতে দেখা যায়নি। দুঃখের বিষয় এই যে এই ২৩টি ছাগলের মধ্যে ১৫টি ছাগলই গর্ভবতী ছিল।

RELATED Articles

Leave a Comment