বছর ঘুরতেই কী রাজনৈতিক সমীকরণও পালটাচ্ছে? গত বছরও যারা একে অপরকে শানাতে বিন্দুমাত্র কসুর করতেন না, এখন কী তারাই এবার রাজনৈতিক বিবাদ ভুলে কাছাকাছি আসছেন? এমন নানান প্রশ্নই উঁকিঝুঁকি মারছে রাজ্য-রাজনীতির অন্দরে। বিগত বশ কিছুদিন ধরেই তৃণমূল (TMC) ও বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) মধ্যে সমীকরণ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
একদিকে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের মন্তব্য, অন্যদিকে তৃণমূল মুখপত্র জাগো বাংলাতে দিলীপ ঘোষের প্রশংসা সবমিলে যেন দিলীপ ঘোষের তৃণমূলে যাওয়ার জল্পনায় ঘি ঢেলেছে। আর এবার মদন মিত্রের গলায় দিলীপ ঘোষের প্রশংসা ও তাঁর জন্য চিন্তার সুর সেই জল্পনাকে আরও কয়েকগুণ বাড়াল।
গতকাল, বুধবার উত্তর দিনাজপুরের এক দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। সেখানেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দিলীপ ঘোষকে দেখে সত্যি কষ্ট হচ্ছে। ও লাঠি ঘুরিয়ে বিজেপি দলকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে দাঁড়িয়ে উঠতে পারেনি। আসলে শুভেন্দুরা গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছে। কিন্তু দিলীপবাবু তা পারেননি। তাই আমি ওনাকে বলব ভেঙে না পড়তে। দিলীপবাবু, আপনি লড়াই চালিয়ে যান। আপনার দল আপনাকে নিয়ে মাতোয়ারা না হলেও আপনি দলের একমাত্র পুরনো লোক”।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় দাবী করে বলেছিলেন যে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ও পরে দিলীপ ঘোষ নাকি তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। তাঁর এই মন্তব্যে রীতিমতো ঝড় বয়ে যায় রাজ্য-রাজনীতিতে। তবে দিলীপ ঘোষ এই দাবী নাকোচ করে দেন। তবে এরপরই তৃণমূলের জাগো বাংলাতে দিলীপ ঘোষের ভূয়সী প্রশংসা ফের একবার দিলীপ ঘোষের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জল্পনাকেই উস্কে দেয় বৈ কী!
এদিন দিলীপ ঘোষকে নিয়ে মন্তব্য করা ছাড়াও বিজেপি এবং সিবিআই ও ইডিকে একপ্রকার তুলোধোনা করে মদন মিত্র বলেন, “বর্তমান সময়ে সিবিআইয়ের স্ট্যাটাস ক্রমশ পরিবর্তন হতে লেগেছে। আগে করোনার মতো সিবিআইয়ের নামেও একটা আতঙ্ক বিরাজ করত। কিন্তু বর্তমানে জামা কাপড় বদলানোর মতোই হয়ে গিয়েছে তাদের স্ট্যাটাস। সিবিআই এবং ইডি বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসকে অপদস্ত করার চেষ্টা করে চলেছে”।
মদনের সংযোজন, “কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে আমাদের দলকে অপদস্ত করার চেষ্টার মূলে রয়েছে বিজেপি। ওরা গণতন্ত্রকে শেষ করে দিতে চাইছে। তবে বিজেপি ভুলে গিয়েছে, যতদিন আমাদের মাথার উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন, ততক্ষণ আমাদের অপদস্ত করা সহজ হবে না”।






