‘চাকরির নামে কেউ টাকা নিলে ছারপোকার মতো টিপে মারুন, চাকরি দিতে পারেন একমাত্র মা জগদ্ধাত্রী মমতা’, বিতর্কিত মন্তব্য মদনের

চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ করা বা প্রতারণা (cheating) করা, এমন নানান চিত্র সাম্প্রতিককালে রাজ্যে একটু বেশিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই প্রতারণার ঘটনায় তৃণমূলের একাধিক নেতার নাম জড়িয়েছে। যারা চাকরির (jobs) নামে টাকা তুলছে, তাদের এবার ছারপোকার মতো ‘টিপে’ মারার নিদান দিলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। এমনকি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) মা জগদ্ধাত্রীর (Devi Jagaddhatri) সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন যে চাকরি দিতে পারেন একমাত্র মমতাই।

গতকাল, মঙ্গলবার কামারহাটির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। সেখান থেকে নানান বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। মদনের কথায়, “চারপাশটা চিটিংবাজ ফেরেববাজে ভরে গিয়েছে। চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলছে। এইসব চিটিংবাজদের পেলে ছারপোকার মতো টিপে মারুন। জমি, মায়ের গয়না বা রক্ত বিক্রির টাকা যারা চাকরি দেওয়ার নামে তুলে নিয়ে যায়, তাদের কোনও ক্ষমা নেই”।

চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার কথা বলতে গিয়ে তাঁর মুখে উঠে আসে তাঁর একসময়ের সহকর্মী তথা রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথাও। মদন বলেন, “একটা টেট কী দেখছেন! পার্থর বেলা তো দল ব্যবস্থা নিয়েছে। আরও কত লোক চারপাশে টাকা তুলে বেড়াচ্ছে”।

তৃণমূল বিধায়কের আরও সংযোজন, “ছেলেমেয়েদের চাকরি চাই। প্রতারকরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, চাকরি পাওয়ার জন্য কাউকে টাকা দেবেন না। চাকরি যদি দেয় তাহলে ওই মালিক বসে আছে মা জগদ্ধাত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী”।

তৃণমূল বিধায়কের এহেন মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেয় বিজেপিও। বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “উনি রসে-বসে থাকলেই তো পারেন! এসব কী বললেন! এসব বললে তো ওঁর সহকর্মী, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের টিপে মারতে হয়। এরকম করলে অর্ধেক তৃণমূল শেষ হয়ে যাবে”।

তবে মদনের এমন মন্তব্যে দলকে যে নতুন করে অস্বস্তিতে পড়তে হবে, তা বলাই বাহুল্য। মদনের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “ওঁর কাছে এরকম খবর থাকলে শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাক। শীর্ষ নেতৃত্ব ব্যবস্থা নেবে। প্রকাশ্যে এরকম বললে দলকে অস্বস্তিতে পড়তে হয়”।

RELATED Articles