Road Accident : বিক্ষোভ, ভাঙচুর, র‍্যাফের হস্তক্ষেপ—মধ্যমগ্রামে দুর্ঘটনার জেরে উত্তাল যশোর রোড!

সোমবার সকাল হতেই অশান্তির আঁচ ছড়িয়ে পড়ে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে। জনবহুল যশোর রোডে আচমকা থেমে যায় যান চলাচল। চিৎকার, প্রতিবাদ, ভাঙচুর—সব মিলিয়ে যেন অশান্তির আবহ। সকালের কর্মব্যস্ততা শুরু হওয়ার আগেই থমকে দাঁড়ায় শহরের অন্যতম ব্যস্ত রোডটি। স্থানীয়দের চোখে-মুখে হতভম্বতা, প্রশ্ন—কেন এই হঠাৎ রোড অবরোধ? কী এমন ঘটল যা মুহূর্তে রাস্তায় টেনে আনল জনতার ঢল?

জানা গিয়েছে, সোমবার ভোররাতে মধ্যমগ্রামের যশোর রোডের কাজী নজরুল ইসলাম সরণিতে ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। একটি মোটরসাইকেল এবং মাছ বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মোটরসাইকেলের আরোহী ডিভাইডারের ফাঁক দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় আচমকাই গাড়িটি তাঁকে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে ছিটকে পড়েন দুই আরোহী। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক যুবকের, আরেকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকেও মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। রাস্তার উপরেই বসে পড়েন শতাধিক মানুষ। শুরু হয় বিক্ষোভ। প্রায় আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। তাতে নাজেহাল হয়ে পড়েন যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বারাসত পুলিশের এসডিপিও এবং মধ্যমগ্রাম থানার অফিসার ইন চার্জ। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের একাংশ পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ঘেরাও করে পুলিশকে।

বিক্ষোভের মাঝেই উত্তেজিত জনতা চড়াও হয় মধ্যমগ্রাম থানার একটি পুলিশ কিয়স্কে। শুরু হয় ভাঙচুর। থানার সামনেও কিছু অংশে ক্ষয়ক্ষতি করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় কাছেই পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার উপস্থিত থাকলেও ঘাতক চালককে ধরার কোনও পদক্ষেপ করেনি কেউ। সেই সুযোগেই পালিয়ে যায় পিকআপ ভ্যানের চালক ও খালাসি। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে।

আরও পড়ুনঃ Anubrata Mondal : গার্ডরেলের বাইরে কেষ্ট! শহিদ দিবসে মঞ্চে উঠতে না পেরে ক্ষোভে ফিরলেন অনুব্রত!

উত্তেজনা এতটাই চরমে পৌঁছয় যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র‍্যাফ। তারা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে অবরোধ তুলে দেয়। যান চলাচল ফের স্বাভাবিক হয় যশোর রোডে। দুর্ঘটনায় মৃত দুই যুবকের নাম এস কে কাসেদ (২৫) এবং জিয়ারুল রহমান (৩৮)। তাঁদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া এলাকাজুড়ে। এই ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে জনমনে প্রশ্নের ভিড়। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পলাতক চালক ও খালাসির খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেই জানিয়েছে প্রশাসন।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles