Anubrata Mondal : গার্ডরেলের বাইরে কেষ্ট! শহিদ দিবসে মঞ্চে উঠতে না পেরে ক্ষোভে ফিরলেন অনুব্রত!

২১ জুলাই শহিদ দিবসের সমাবেশ মানেই তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। আর সেই সভা কেন্দ্র করেই এদিন চাঞ্চল্য ছড়াল ধর্মতলায়। কারণ, মঞ্চের একেবারে সামনে পৌঁছে যাওয়ার পরও মঞ্চে উঠতে পারলেন না বীরভূমের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। নিরাপত্তারক্ষীদের বাধায় সভাস্থল থেকেই ফিরে যেতে হল তাঁকে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানান প্রশ্ন—তবে কি দিদির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে কেষ্টর?

এদিন বিকেল ৪টে ৪০ মিনিট নাগাদ ধর্মতলার মূল মঞ্চের সামনে দেখা যায় অনুব্রত মণ্ডলকে। গায়ে নীল পাঞ্জাবি। মূল মঞ্চটি ছিল গার্ডরেল দিয়ে ঘেরা। সেখানে গিয়ে দাঁড়াতেই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে আটকে দেন। পাশেই ছিলেন বজবজের তৃণমূল বিধায়ক অশোক দেব। দু’জনের মধ্যে কিছুক্ষণ কথা হয়। পরে দেখা যায়, রাস্তার ধারে থাকা তৃণমূল সমর্থকরা অনুব্রতকে দেখে হাত নাড়ছেন, তিনিও তাঁদের দিকে হাত নাড়েন। কিছুক্ষণ গার্ডরেলের পাশেই বসে থাকার পর, অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন তিনি।

সাধারণত, তৃণমূলের বড় মঞ্চে অনুব্রত মণ্ডলের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। কিন্তু এদিন, দিদির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। তিনি চলে যাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর সভাস্থলে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতেই জল্পনা জোরদার হয়—ইচ্ছাকৃতভাবেই কি দূরে রাখা হল তাঁকে? অথচ, ২০২২-এ গরু পাচার মামলায় সিবিআই গ্রেফতারের পরও বীরভূম জেলা সভাপতির পদে কাউকে বসাননি মমতা। জামিনে ছাড়া পেয়ে ফিরে এলেও, এখন আর সেই পদে নেই কেষ্ট।

কিছুদিন আগে বোলপুর থানার আইসি-কে ফোন করে গালিগালাজের একটি অডিয়ো সামনে আসে। অভিযোগ, সেই গলায় ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল নিজেই। দলীয় অস্বস্তি বাড়তেই ক্ষমাও চান তিনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওই ঘটনায় দলনেত্রীর মনে ক্ষোভ জন্মেছে। হয়তো সেই কারণেই এবার শহিদ দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে তাঁকে মূল মঞ্চের বাইরে রাখা হল।

আরও পড়ুনঃ ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই, কেন শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয় এই দিনটি? জেনে নিন সেই রক্তা’ক্ত দিনের ইতিহাস!

ফিরহাদ হাকিম যাঁকে ‘বীরভূমের বাঘ’ বলে অভিহিত করেছিলেন, তিনি এখন শুধু কোর কমিটির সদস্য। এখনও জেলা সভাপতি পদে নতুন কাউকে বসাননি মমতা, কিন্তু কেষ্টও আর সেই আসনে নেই। ফলে রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, অনুব্রত কি ধীরে ধীরে ছিটকে পড়ছেন কেন্দ্রীয় রাজনীতির মূল স্রোত থেকে? শহিদ দিবসের সভায় তাঁর এই অবস্থান যে আরও একবার সেই প্রশ্ন উসকে দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর