দুর্গাপুজো (Durga Puja) আর হাতে গোনা কয়েক দিন। এর মধ্যেই আকাশে বাতাসে পেঁজা তুলোর মত শরতের মেঘ উঁকি দিচ্ছে। মা আসবেন শুভ শক্তির প্রকাশ ঘটিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ করে। দেবী দুর্গা প্রতি বছর কৈলাস থেকে মর্ত্যলোকে আসেন মাত্র চার দিনের জন্য, এরপর দশমীর দিন যখন দেবীর বিসর্জন হয় তখন কিন্তু আসলে দেবীর বিসর্জন আমরা করি না আমরা বিসর্জন করি মহিষাসুরের! কিন্তু অনেকেই জানেন না আমাদের দেশে এমন জায়গাও আছে যেখানে পূজিত হয় মহিষাসুর (Mahishasur)।
স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল তিন লোক যখন অধিকার করেছিল মহিষাসুর তারপর সে শুরু করেছিল, তার অত্যাচার ও ধ্বংসলীলা। সব জায়গায় ঋষিদের যজ্ঞ পন্ড করা থেকে শুরু করে নারীদের অসম্মান- কোনও কুকর্ম করতেই বাদ রাখেনি সে, দেবতারা মহিষাসুরের ভয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। সেইসময় দেবতাদের আসন্ন সংকট থেকে উদ্ধার করতে ও পাপের বিনাশ করতে আবির্ভূতা হন আদ্যাশক্তি মহামায়া।মহিষাসুরের বিনাশ বলতে আমরা সেই অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভশক্তি সূচনাকে বুঝে থাকি।
দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করতে প্রতিবছর মা আসেন আর বিনাশ করেন মহিষাসুরের। কিন্তু এমনও জায়গা আছে, যেখানে মা দুর্গাই হলেন খলনায়িকা আর উপাস্য হল মহিষাসুর। পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই আছে সেই গ্রাম যেখানে মা দুর্গা নন, পূজিত হন মহিষাসুর। যেখানে মহিষাসুর দেবতা। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটাই সত্যি। গোটা বাংলা জুড়ে যখন মায়ের আবাহন এবং অসুরের বিসর্জন হয় তখন পশ্চিমবঙ্গেরই একটি গ্রামে পুজিত হয় মহিষাসুর।
কোথায় আছে এমন গ্রাম?
পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার ভালাগোড়া গ্রামে এই অদ্ভুত রীতি প্রচলিত। বহু বছর ধরে এখানে হয় হুদুড় দুর্গাপুজো। এখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দা হলেন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের। তাদের প্রধান উপাস্য দেবতাই হল মহিষাসুর অর্থাৎ হুদুড়। পুরাণ অনুযায়ী এই অঞ্চলে এক অনার্য রাজা বাস করতেন তিনি ছিলেন বহু নারীকে আসক্ত। সেই সময় আর্যরা নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লোভে হুদুড় রাজাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন।
হুদুড় রাজাকে হত্যা করতে তারা এক সুন্দরী নারীকে রাজার কাছে পাঠায়। সেই ছলনাময়ী নারী ছলনার আশ্রয় নিয়ে রাজাকে হত্যা করে। রাজার মৃত্যুর পর আর্যদের হাত থেকে বাঁচতে সমস্ত প্রজারা এক গুরুর আদেশ নারীর পোশাক পরে নাচতে নাচতে গ্রাম ছেড়ে পালায় আর ঠিক সেই কারণেই ওই গ্রামের সাঁওতাল খেরওয়াল জনগোষ্ঠীর মানুষরা হুদুড় রাজার স্মরণে নবমীর দিন মহিষাসুরের পুজো করেন।





