সামনেই দুর্গাপুজো। প্রায় শেষ পর্যায়ে চলছে প্রস্তুতি। দিকে দিকে মাতৃবন্দনার ডাক। এসবের মধ্যেই এবার বেফাঁস মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক। কোনও মণ্ডপে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি টাঙাতে অসুবিধা থাকে, তাহলে পুজোর অনুদান না নেওয়ার নিদান দিলেন তিনি।
বরাবরই নানান বিতর্কিত মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে জায়গা করে নেন বর্ধমানের ভাতারের তৃণমূল বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী। কিন্তু এবার যেন সীমা লঙ্ঘন করলেন তিনি। এক সরকারি অনুষ্ঠানে এমন হুঁশিয়ারি এক জনপ্রতিনিধি কীভাবে দিতে পারেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
আজ, সোমবার ভাতার থানায় মঞ্চ বেঁধে নানান পুজো কমিটিগুলিকে পুজোর অনুদাম দেওয়ার কাজ চলছিল। এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী। এছাড়াও ছিলেন ভাতারের বিডিও দেবজিৎ দত্ত, ডিএসপি (ক্রাইম) সুরজিৎ মণ্ডল, সার্কেল ইনস্পেক্টর শৈলেন উপাধ্যায় ও ভাতার থানার ওসি প্রসেনজিৎ দত্ত। সকলের মাঝেই হুঁশিয়ারি শানান তৃণমূল বিধায়ক।
প্রকাশ্যেই এদিন মানগোবিন্দ অধিকারী বলেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী পুজোর জন্য যে টাকা দিচ্ছেন,তার জন্য তাঁর ছবি যেন প্রতিটি প্যান্ডেলে টাঙানো থাকে। এটা কিন্তু মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে টাকাটা নিচ্ছেন আপনারা”।
তাঁর কথায়, “এটা সরকারের টাকা। মুখ্যমন্ত্রী সরকারের লোক। কিন্তু অনেকে টাকাটা নিচ্ছেন,অথচ মুখ্যমন্ত্রীর ছবি টাঙাচ্ছেন না। এটা খুব বাজে জিনিস। না হলে আপনারা টাকাটা নেবেন না। আপনাদের যদি মুখ্যমন্ত্রীর ছবি টাঙাতে অসুবিধা হয় তাহলে আপনারা টাকা নেবেন না।ছবি টাঙাতে অসুবিধা হলে টাকাটা না নেওয়াটাই ভালো। এটা আমার অনুরোধ আপনাদের কাছে। অনেক ক্লাব তো টাকা নিচ্ছে না। আপনারাও নেবেন না”।
বিধায়কের এই মন্তব্যের জেরে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তা নিয়ে কটাক্ষ শানাতে দেরি করেন নি বিরোধীরা। জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, “কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য বা ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য বিধায়ক একথা বলেছেন। এটা একেবারে সাধারণ কথা। এটা তিনি বলতেই পারেন। কারণ তিনি শাসকদলের একজন বিধায়ক”।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “সরকার আর দল সব গুলিয়ে ফেলেছেন বিধায়ক। তাই এরকম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের মঞ্চে বসে তিনি নিয়ম তৈরি করছেন”।





