সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। কিন্তু বেলা বাড়তেই রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে ছড়িয়ে পড়ে চাপা উত্তেজনা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হঠাৎ তৎপরতায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—তদন্তের লক্ষ্য আসলে কী? পুরনো একটি মামলাকে সামনে রেখে কেন এমন সময়ে এই অভিযান? আর সেই প্রশ্নের মাঝেই নাটকীয়ভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী নিজে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়লাকাণ্ড সংক্রান্ত একটি পুরনো মামলাকে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকা সেই মামলায় হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বুধবার সকালে তদন্তকারীরা পৌঁছে যান নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। পাশাপাশি সল্টলেকে সংস্থার অফিসেও শুরু হয় তল্লাশি। তদন্ত চলাকালীন খবর পৌঁছতেই ঘটনাস্থলে যান কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মা। তাঁর উপস্থিতির কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতে বাড়িতে ঢুকলেও বেরিয়ে আসেন একটি সবুজ ফাইল ও একটি ল্যাপটপ নিয়ে। এরপরই প্রকাশ্যে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। মমতার দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থিতালিকা, নির্বাচনী কৌশল এবং দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দলের হার্ড ডিস্ক, ফোন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি এটিকে সরাসরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের সুবিধা করে দিতেই এই অভিযান।
এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে সরব হন বিরোধীরা। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, একজন মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে তদন্ত চলাকালীন ঘটনাস্থলে যাওয়া সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে হস্তক্ষেপের শামিল। তাঁর মতে, এটি তদন্তে বাধা দেওয়ার সমান এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, আই-প্যাক একটি কর্পোরেট সংস্থা, কোনও রাজনৈতিক পার্টি অফিস নয়, ফলে তল্লাশি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ভিত্তিহীন।
আরও পড়ুনঃ আই প্যাক তল্লাশি বিতর্কে তীব্র আক্রমণ শমীকের মমতার বিরুদ্ধে নৈতিকতার প্রশ্নে সরব বিজেপি
পাল্টা জবাবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের আগে বারবার এই ধরনের অভিযান সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তুলছে। তদন্তের নামে রাজনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েই বাড়ছে বিতর্ক। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাত যে আরও তীব্র হবে, তা এখনই স্পষ্ট।





