ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মন্তব্য করেছেন, তাতে যে ভারত সরকার আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে পারে, এমনটাই মনে করছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এই নিয়ে একটি টুইট করে তিনি লেখেন, “অবিশ্বাস্য! মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সব সীমা ছাড়িয়ে রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য কেন্দ্রকে দায়ী করেছেন। তাঁর মন্তব্য যে কূটনৈতিক স্তরে ভারতের বিরুদ্ধে যেতে পারে, মুখ্যমন্ত্রী জানেন না। বিদেশমন্ত্রী দেখুন যাতে এই ক্ষতি সামাল দেওয়া যায়”। এই টুইটটি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ট্যাগও করলেন শুভেন্দু।
https://twitter.com/SuvenduWB/status/1509045681192722434?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1509045681192722434%7Ctwgr%5E%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Ftv9bangla.com%2Fkolkata%2Fwest-bengal-bjp-launches-fresh-attack-on-mamata-banerjee-over-her-comment-on-russia-ukraine-war-536653.html
কিন্তু ঠিক কী বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী নিজের ভাষণে বলেন, “আমি দিল্লিকে (পড়ুন কেন্দ্রীয় সরকারকে) বলেছিলাম, একটা অনুমতি করে দিন, ওখানে যাঁরা পড়তেন, তাঁদের এখানে পড়ানোর খরচ আমি বিনামূল্যে করিয়ে দেব। কিন্তু সংসদে তার উত্তর দিয়েছে, হবে না। জমিদারি নাকি… হবে না? যুদ্ধ লাগানোর আগে তোমার ভাবা উচিত ছিল কি না আমাদের ছেলেগুলো যখন ফিরে আসবে কী খাবে, কোথায় যাবে, কোথায় পড়বে? যদি পড়ুয়াদের জন্য কোনও সহানুভূতি থাকে, তাহলে আমি দাবী করছি এই পড়ুয়াদের বাংলায় এবং গোটা দেশে পড়তে দিন”।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন মন্তব্যের বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে জানানো হয় যে শুভেন্দু অধিকারীর দাবী সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এও জানানো হয় যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ লাগার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বার্তা দিয়েছিলেন যে তিনি কেন্দ্র সরকারের পাশে রয়েছেন।
এই নিয়ে তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় জানান, “কোনও মূর্খ যদি কোনও জিনিসের ব্যাখ্যা মূর্খের মতো করে, সেই মূর্খের ব্যাখ্যা তো যে মানুষ সম্যক অবহিত আছেন, তিনি কী প্রতিক্রিয়া দেবেন। পৃথিবীর সবাই জানে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিত কী এবং কেন সেখানে সংঘর্ষ চলছে। সেখানে ভারতের যে বিদেশনীতি, তাতে আমাদের মুখ্যমন্ত্রীই সারা দেশের একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি কেন্দ্রকে চিঠি লিখে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন”।
তবে মমতার এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই তোপ দাগার কোনও সুযোগ ছাড়তে রাজি নয় বিজেপি। বিজেপির দাবী, মুখ্যমন্ত্রীর এমন দাবী কূটনৈতিক স্তরে ভারত সরকারকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলতে পারে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী বিরোধিতা করতে করতে এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছেন। ভারতের মতো পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের একজন দায়িত্বশীল অঙ্গরাজ্যের নেত্রী যদি এ কথা বলেন, তাহলে এর থেকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দেশ অস্বস্তির মধ্যে পড়তে পারে। বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। আবার উল্টোটাও হতে পারে। সেই জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর এই কথা হতাশাজনক”।






