‘সাগরদিঘিতে বিজেপির ভোট পড়েছে কংগ্রেসে, কংগ্রেসের এই জয় অনৈতিক’, উপনির্বাচনে হেরে বিস্ফোরক মমতা

সাগরদিঘি উপনির্বাচনে তৃণমূলের হার যে শাসক দলের কাছে একটা বড় ধাক্কা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই হার অস্বস্তি তো বটেই। তবে সাগরদিঘিতে কংগ্রেসের এই জয়কে এবার অনৈতিক বলে দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, সাগরদিঘিতে বিজেপির ভোট গিয়েছে কংগ্রেসের জিম্মায়।,

মমতার কথায়, সাগরদিঘিতে কংগ্রেস জিতলেও, তাদের সেই জিত অনৈতিক। বিজেপির ভোটে জিতেছে কংগ্রেস। তিনি বলেন, “২০২১ সালে সিপিএম, কংগ্রেস মিলে মহাঘোঁট করেছিল। তখন ওদের ভোটটা গিয়েছিল বিজেপির দিকে। এবার বিজেপির ভোটটা ওদের দিকে গিয়েছে। ওদের মধ্যে দেওয়া নেওয়ার সম্পর্ক আছে। ওদের মূল লক্ষ্য আমাকে পরাজিত করা”।

মমতার অভিযোগ, “কংগ্রেস নিজেদের বিজেপি-বিরোধী বলার অধিকার হারিয়েছে। এই ধরনের জোট হলে কংগ্রেস কীভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়বে? আমাদের কাছে এটা শিক্ষা। আমাদের কংগ্রেস এবং সিপিএমের কথা শোনা উচিত না। তবে তৃণমূল এই তিন দলকে একসঙ্গে হারানোর জন্য প্রস্তুত”।

মমতা আরও বলেন, সাগরদিঘি উপনির্বাচনে যেভাবে সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি বোঝাপড়া করে ভোট করেছে তা তৃণমূলের জন্য শিক্ষার। কিন্তু এও ঠিক, একটা কেন্দ্রের উপনির্বাচন দিয়ে যাঁরা গোটা বাংলার জনমতকে দাঁড়িপাল্লায় ফেলতে চাইছেন তাঁরা ভুল করছেন।

উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে সাগরদিঘিতে তৃণমূল পেয়েছিল ৯৫ হাজার ১৮৯টি ভোট। সেই সময় দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিজেপি। গেরুয়া শিবির পেয়েছিল ৪৪ হাজার ৯৮৩টি আসন। কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ৩৬ হাজার ৩৪৪ ভোট। অর্থাৎ কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের ফারাক ছিল ৫৮ হাজার ৮৪৫ ভোট।

আর এবার উপনির্বাচনে কংগ্রেস পেয়েছে ৮৭ হাজার ৬১১টি ভোট। তৃণমূল পেয়েছে ৬৪ হাজার ৬৩১। আর বিজেপি পেয়েছে মাত্র ২৫ হাজার ৭৯৩ ভোট। তৃণমূল প্রথম থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে সাগরদিঘিতে বিজেপি ও কংগ্রেসের আঁতাত রয়েছে। আর বিজেপির ভোট যদি কংগ্রেসে যায় তাহলেও যুক্তিটা খুব ভুল হবে না কারণ একুশের বিধানসভা নির্বাচনের চেয়ে উপনির্বাচনে বিজেপির ভোট অনেকটাই কমেছে সাগরদিঘিতে আর অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। তবে এটাও ঠিক যে তৃণমূলের ভোটও কমেছে। কিন্তু সার্বিকভাবে এই ফলাফলকে তেমন আমল দিতে চাইছে না শাসক দল।

RELATED Articles