গত ১৫ বছরে এমন বন্যা দেখে নি বাংলা, এমনটাই দাবী করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখেছেন তিনি। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন দুর্গতদের। এবার বন্যার জেরে মৃতদের পরিবারদের আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আজ, মঙ্গলবার বীরভূমে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফের একবার বন্যা পরিস্থিতির জন্য ডিভিসিকে দোষেন তিনি। এরই সঙ্গে ঘোষণা করেন। বন্যার কবলে পড়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবেন রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, বন্যার জেরে নানান জেলায় প্রায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুধুমাত্র মৃতদের পরিবারদের আর্থিক সাহায্যই নয়, বন্যায় যাদের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের বাড়িও বানিয়ে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, অন্তত ১১ লক্ষ বাড়ি তৈরি করা হবে। এখানেই শেষ নয়, যাদের ফসল বন্যার জেরে নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তাদের শস্যবিমার আওতায় নিয়ে এসে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বলে রাখি, গতকাল, সোমবার পূর্ব বর্ধমানে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বাংলার বন্যা পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রকে তোপ দেগেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, কেন্দ্র সরকার ভোটের জন্য যে টাকা খরচ করে, তার ১ শতাংশও যদি রাজ্যকে দিত, তাহলে তিনি বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারতেন। মুখ্যমন্ত্রী এও জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের থেকে সাহায্য না পেলেও রাজ্য সরকার সাধ্যমতো সাহায্য করবে বন্যা দুর্গতদের।
প্রসঙ্গত, বাংলার এই বন্যা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই দাবী করে আসছেন যে এটা ‘ম্যান মেড’ বন্যা। ডিভিসি না জানিয়ে প্রচুর পরিমাণ জল ছাড়ার ফলেই এই বন্যা হয়েছে বলে দাবী মমতার। তাঁর অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডকে বাঁচাতে বাংলাকে এভাবে পরিকল্পিতভাবে ডুবিয়েছে ডিভিসি। ডিভিসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠিও দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেই দিয়েছিলেন, তিনি আগামীতে ডিভিসির সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন না।





