কেতুগ্রামের রেণুর পাশে মমতা! দিলেন চাকরির আশ্বাস, কৃত্রিম হাত ও চিকিৎসার খরচ বহন করবে সরকার, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

কেতুগ্রামের রেণু খাতুনের (Renu Khatun) পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আজ, বুধবার তিনি ঘোষণা করেন যে রেণুর ডানহাত কাটা যাওয়ায় তাঁকে অন্য কোনও কাজ দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি তিনি এও জানান রেণুর কৃত্রিম হাত (artificial hand) লাগানো ও তাঁর চিকিৎসার যাবতীয় খরচের (treatment expenses) ব্যবস্থা সরকার করবে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, “ওর জন্য ৩টে কাজ করছি। এক, যে কাজটা ও করতে পারবে, সেই কাজটাই ওকে করতে দেওয়া হবে। দুই, যে হাতটা কেটে দিয়েছে সেখানে আর্টিফিসিয়াল হাতের ব্যবস্থা করব। তিন, ও যেখানে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিল, সেখানে ৫৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল বলে জানতে পেরেছি। সেটা আমরা দিয়ে দেব। ওর স্বাস্থ্যসাথী থাকা সত্ত্বেও সেটা ওরা নেয়নি। কেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেওয়া হয়নি? সেটা মুখ্যসচিবকে দেখতে বলেছি”।

সরকারি হাসপাতালে রেণু নার্সের চাকরি পাওয়াটা মেনে নিয়ে পারে নি তাঁর স্বামী সরিফুল। সরিফুল তেমন কোনও কাজ করে না, কার্যত বেকারই বলা যেতে পারে। এই কারণে হীনমন্যতায় ভুগে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীর ডানহাতের কবজি কেটে দেয় সরিফুল। এই ঘটনায় সরিফুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে রেণুর শ্বশুর-শাশুড়িকেও।  

সূত্রের খবর, ২০১৭ সালে কেতুগ্রামের চিনিসপুরের বাসিন্দা রেণু খাতুনের বিয়ে হয় সরিফুলের সঙ্গে। বিয়ের পর এক বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করতেন রেণু। এরপর আরজিকর হাসপাতালে থেকে নার্সিং ট্রেনিং নেন তিনি। এরপরই সরকারি হাসপাতালে চাকরি পান রেণু।

তবে ডানহাত কাটা যাওয়ার পর দমে যান নি রেণু। এই ঘটনার চারদিনের মাথাতেই হাসপাতালের বিছানাতে বসেই বাঁ হাতে লেখার চেষ্টা করেন তিনি। নিজের নাম ও ঠিকানা লেখেনও। রেণুদের যে কোনওভাবেই দমিয়ে রাখা যায় না, তা ফের প্রমাণ করলেন তিনি।

বলে রাখি, স্বাস্থ্য দফতরের তরফে রেণুর চাকরি নিয়ে আগেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাঁর সুস্থ হওয়ার প্রহর গুনছে স্বাস্থ্য ভবন। স্বাস্থ্য ভবনের অধিকর্তা সিদ্ধার্থ নিয়োগী জানিয়েছেন যে সুস্থ হয়ে ওঠার পর রেণুর চাকরি পেটে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর পঙ্গুত্ব কতখানি রয়েছে, তা দেখে নেওয়া হবে।

RELATED Articles

Leave a Comment