এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে রাজ্যে বিতর্কের শেষ নেই। এই মামলায় নাম জড়িয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর। দু’জনেই সিবিআই দফতরে একাধিকবার হাজিরা দিয়েছেন। বেনিয়মের অভিযোগ চাকরি বাতিল হয়েছে পরেশ-কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর। এবার টেট নিয়েও শুরু হল বিতর্ক।
পরীক্ষায় পাশই করেন নি, এদিকে মেধাতালিকায় নাম একাধিকের। এসএসসি-র পর প্রাইমারি টেটেও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। গত সোমবারই এক অঙ্ক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। আর আজ, বুধবার সেই মামলার শুনানিতেই টেট মামলার তদন্ত সিবিআইয়ের উপর তুলে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
যা বোঝা গেল, এসএসসি-র মতোই ২০১৬ সালের প্রাথমিক টেটের নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তেও রাজ্য পুলিশের উপর কোনও আস্থা রাখতে পারল না কলকাতা হাইকোর্ট। এই কারণে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় টেট মামলার তদন্তভার তুলে দিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকেই।
আজ, বুধবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চে প্রাথমিক টেট মামলার শুনানি ছিল। এই শুনানিতেই তিনি টেট মামলার যাবতীয় তদন্তভার তুলে দেন সিবিআইয়ের হাতেই। এর পাশাপাশি তিনি এও নির্দেশ দেন যাতে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উপেন বিশ্বাসকে এই মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
এদিন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “এই তদন্তে উপেন বিশ্বাসকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে”। তিনি আরও জানান যে প্রয়োজন পড়লে প্রাক্তন মন্ত্রীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে সিবিআই।
শুধু তাই-ই নয়, এই মামলার শুনানিতে রঞ্জন বলে এক ব্যক্তিরও নাম উঠে এসেছে। এদিন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানতে চান যে এই রঞ্জন আসলে কে? তিনি কি কোনও কাল্পনিক চরিত্র নাকি আদৌ রঞ্জন বলে কোনও ব্যক্তি বাস্তবে রয়েছেন? এরপরেই তিনি বলেন, “এই রঞ্জনের অস্তিত্ব আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখবে সিবিআই”। আগামী ১৫ই জুনের মধ্যে এই মামলার হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওইদিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে।





