‘ক্যায়া নন্দলাল, চুপ কিউ হ্যায় আপ’, প্রতিবাদী কুস্তীগিরদের সমর্থনে রাস্তায় নামলেন মমতা, আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে মোদীকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতার রাজপথ থেকে কুস্তীগিরদের আন্দোলনকে সমর্থন করে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ফের একবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, বৃহস্পতিবার গোষ্ঠপাল মূর্তির পাদদেশ থেকে  গান্ধী মূর্তির পাদদেশ পর্যন্ত আন্দোলনকারী কুস্তীগিরদের সমর্থনে মোমবাতি মিছিলে হাঁটেন মমতা। রাজ্যের ক্রীড়াজগতের বিশিষ্টরাও এদিন এই মিছিলে পা মেলান।

এদিন মিছিল শুরু আগে গোষ্ঠপালের মূর্তির পাদদেশ থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কুস্তিগীরদের সঙ্গে যে ধরণের ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বললেন, “আমি দেশের নাগরিক হিসেবে লজ্জিত। ওয়ার্ল্ড রেসলার্স অর্গানাইজ়েশন বলছে, এরকম চলতে থাকলে ভারতের লাইসেন্স বাতিল করে দেবে”।

তাঁর কথায়, “খেলোয়াড়দের কমিউনিটি ছোট নয়। এটাও একটা বড় কমিউনিটি, এটা বুঝতে হবে। কুস্তিগীররা যাঁরা লড়াই করছেন দীর্ঘদিন ধরে, তাঁদের সকলকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। অনেক কষ্ট সহ্য করে, দেশের জন্য লড়াই করতে গিয়ে তাঁদের অনেক ঘাম ঝড়েছে। অনেক পরিশ্রম করেছে। অনেকে হয়ত ঠিকঠাক খেতেও পায় না”।

এদিন গোষ্ঠপালের মূর্তির পাদদেশ থেকে বিজেপিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতিটি খেলার মাথায় কোনও না কোনও নেতাকে জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছে বিজেপি। যাঁরা উপযুক্ত খেলোয়াড়, তাঁদের খেলতেও দিচ্ছে না। আমি চাই গোটা দেশের যত ক্রীড়াবিদ রয়েছেন, যত শুভাকাঙ্খী রয়েছেন, আপনারা সকলে এর প্রতিবাদ করুন”।

ওয়ার্ল্ড রেসলার্স অর্গানাইজ়েশন ভারতের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়ার কথা শুনেছেন মমতা। সেই বিষয়ে তিনি বলেন, “একে তো হয় না। আর যখন হয়, তখন আপনারা খালি ছবি তোলেন। যেন বিজেপির দুধ খেয়ে এরা খেলোয়াড় হয়েছেন। আর যখন এরা রাস্তায় থাকে, তখন পুলিশ দিয়ে অত্যাচার চালানো হয়। আমি তো পুলিশের দোষ দেখছি না, আমি দোষ দেখছি প্রশাসনের”। এরপরই কেন্দ্র সরকারকে একহাত নিয়ে মমতা বললেন, “ক্যায়া নন্দলাল, চুপ কিউ হ্যায় আপ লোগ”।

খেলোয়াড়দের উদ্দেশে এদিন মমতার বার্তা, “আপনারা লড়াই ছাড়বেন না। এটা জীবনের লড়াই, সত্যের জন্য লড়াই।’মমতার বক্তব্য, কাউকে না কাউকে তো বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধতে হবে। কাউকে না কাউকে তো রাস্তায় নামতে হবে”।

এখানেই শেষ নয়, আন্দোলনের সুর আরও চড়িয়ে তিনি বললেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত না গ্রেফতার হবে, আইন কিন্তু ছেড়ে কথা বলবে না। এই লড়াই আমাদের স্বাধীনতার লড়াই। যতক্ষণ কুস্তিগীররা স্বাধীনতা না পাবে, ততদিন লড়াই চলবে। শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই ছাড়ব না”।

RELATED Articles