‘আমি টাটাকে তাড়াইনি, সিপিএম তাড়িয়েছে, আমি জোর করে নেওয়া জমি ফিরিয়ে দিয়েছি’, বিস্ফোরক দাবী মমতার

সিঙ্গুর আন্দোলন! বাংলার রাজনীতিতে এই সিঙ্গুর আন্দোলন এক মাইলফলক বটে। অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দেওয়ার দাবীতে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলন শুধুমাত্র বাংলাই নয়, গোটা দেশে সাড়া ফেল। সিঙ্গুর আন্দোলনে ধরনায় বসে মমতার ২৬ দিন অনশনের পাঠ্যপুস্তকেরও অংশ হয়ে গিয়েছে।

২০০৮ সালে দুর্গাপুজোর এক অষ্টমীতে কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করে রতন টাটা ঘোষণা করেছিলেন যে সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানার প্রকল্প প্রত্যাহার করে নিচ্ছে টাটা গোষ্ঠী। এর ১৪ বছর পর আজ, বুধবার শিলিগুড়ির কাওয়াখালি মাঠে বিজয়া সম্মিলনী থেকে বললেন, “টাটাকে আমি তাড়াইনি। সিপিএম তাড়িয়েছে”। এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “ওরা জোর করে জমি নিয়েছিল। আমরা সেই জমি ফেরত দিয়েছি”।

২০০৬ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সপ্তম বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম স্লোগান ছিল শিল্পায়ন। কিন্তু বামফ্রন্টের তীব্র বিরোধিতার মুখে টাটার ছোট গাড়ির কারখানাকে স্থায়ী করতে পারেনি। মমতার দাবি ছিল, ৪০০একর জমি ফেরত দিতে হবে। অন্যদিকে তৎকালীন বামফ্রন্ট সে ব্যাপারে রাজি ছিল না। তথ্যকেন্দ্র থেকে রাজভবন একাধিক বৈঠকেও সিঙ্গুর জট খোলেনি। শেষমেশ টাটা সিঙ্গুর ছেড়ে গুজরাতের সানন্দে চলে যায় ন্যানো প্রকল্প নিয়ে।

শুধুমাত্র বাংলাই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও সিঙ্গুর আন্দোলন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এরপর কেন্দ্র সরকারের তরফেও আইন করে বলা হয় যে জোর করে কৃষকদের চাষের জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। সিপিএম পলিটব্যুরোও এই একই অবস্থান নেয়।

মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের এহেন মন্তব্যের পাল্টা দিয়েছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “৮০ শতাংশ কাজ হয়ে যাওয়া একটা কারখানাকে ডিনামাইট দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওটা শুধু টাটাকে তাড়ানো ছিল না। মাননীয়ার নেতৃত্বে সেদিন বাংলার বেকার যুবক-যুবতীদের স্বপ্নে ডিনামাইট মারা হয়েছিল। তারপর এখন ওঁরই অনুপ্রেরণায় ঝালমুড়ি আর ঘুগনি শিল্পে পরিণত হয়েছে”।

বলে রাখি, ২০১৬ সালে সিঙ্গুর মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের তরফে বলা হয় যে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার যেভাবে জমি অধিগ্রহণ করেছিল, তাতে পদ্ধতিগত ভুল ছিল। সেই জমি ফিরিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অনেকেরই মতে, ওই জমি আর চাষযোগ্য নয়। কারণ ওই জমির অনেকটা গভীরে কংক্রিট রয়েছে যা চাষের পক্ষে অনুপযোগী।

আরও অন্যান্য খবর