আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে কর্মবিরতি চালাচ্ছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। নানান দাবী নিয়ে চলছে তাদের আন্দোলন। এর মধ্যে রয়েছে তরুণী চিকিৎসকদের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার দ্রুত বিচার,পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের ইস্তফা। এবার তাদের এই দাবী নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গতকাল, বুধবার নবান্নে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই তিনি স্পষ্টত বুঝিয়ে দেন, চিকিৎসকদের এই দাবী মানা হবে না। তিনি এদিন বলেন, “জুনিয়র ডাক্তাররা কোনও সহযোগিতাই করছে না। সরকার কাকে রাখবে, কাকে বাদ দেবে ডাক্তাররা ঠিক করে দেবে নাকি? গণতন্ত্র আছে বলে যা ইচ্ছা দাবি জানাবে! ওরা কেন এত জেদ করছে? ওরা যা বলবে সব মানতে হবে? আমি তো ওদের জন্য সব সময়, সময় দিতে রাজি। সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার তো সবাইকে মানতে হবে। ওদেরকে আরও একবার বোঝাও”।
তিনি আরও বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে জুনিয়র ডাক্তাররা কাজে যোগ না দিলে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে। এঁরা সুপ্রিম কোর্টকেও মানছে না! কী বলব! তবে আমরা এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি না। সময় দিয়ে যাচ্ছি। দেখা যাক.. নইলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকেও তো মান্যতা দিতে হবে। যাক বাণিজ্য সম্মেলনের কথায় আসি…”।
গতকাল, বুধবার জুনিয়র চিকিৎসকদের নবান্নে গিয়ে আলোচনার আমন্ত্রণ জানান মুখ্যসচিব। কিন্তু আলোচনার জন্য বেশ কিছু শর্ত দেন চিকিৎসকরা। সেই শর্ত মেনে আলোচনায় রাজি হয়নি নবান্ন। এই নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার ও মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।
এদিন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “নবান্নতে মেল এল ভোর তিনটেয়। কোনও সিএমও-তে কি এটা মেল করার সময়? এটা কি স্বাভাবিক? তাহলে কি এর পিছনে রাজনীতি লুকিয়ে আছে? আসলে রাজনীতি লুকিয়ে আছে বলেই এই ধরনের ঘটনা আমরা দেখছি। এর পরে আজ দুপুর তিনটেয় মেল করে ৬টায় আসার কথা বললেন মুখ্যসচিব। আড়াই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল ওঁদের। ১২-১৫ জনকে আসতে বলা হল। সেই মেলের উত্তর এল দু’ঘণ্টা পরে, একাধিক শর্ত-সহ। লাইভ টেলিকাস্ট করতে হবে, মাননীয়াকে থাকতে হবে, ডাক্তারদের যা দাবি আছে সেগুলো নিয়েই কথা বলতে হবে”।
আরও পড়ুনঃ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ২ বছর জেলবন্দি, এবার জামিন পেলেন প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির মূলপাণ্ডা মানিক ভট্টাচার্য
এদিন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বেশ স্পষ্টভাবেই বোঝাতে চান যে জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবিদাওয়ার মধ্যে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই এভাবে দর কষাকষি করছেন চিকিৎসকরা। তিনি এও বলেন, “নির্যাতিতা নিহত মেয়েটি বিচার পান, এটা আসলে প্রকৃত দাবী নয়। পিছনে রাজনীতির খেলা আছে। তাই এতটা সময় লাগছে এতকিছু চিন্তা করতে। কিন্তু আসল লক্ষ্য হচ্ছে, কোনও আলোচনা না করা। তাই এই শর্ত আরোপ করা হচ্ছে”।





