‘আমি যদি কাল মরে যাই, তাহলে…’, হঠাৎ কেন এমন সুর মমতার গলায়?

তিনি যে অতীতে সাংসদ বা বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কোনও সুযোগ-সুবিধা নেন নি, তা তিনি বারবার এর আগেও বলেছেন। এবারও তেমনই কথা শোনা গেল তাঁর গলায়। গতকাল, সোমবার ভবানীপুরের বিজয়া সম্মিলনীতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বিরোধীদের কটাক্ষ করেন তিনি।

কী বললেন মমতা?

এদিন মমতা বলেন, “মানুষের জীবন তো খুব ক্ষণস্থায়ী। কাল যদি আমি মরে যাই, দেখবেন যাঁরা আমাকে গালি দেয়, প্রথমে তাঁরাই মালা নিয়ে ঢুকবে। এক জনকেও ঢুকতে দেবেন না। আমি সবাইকে বলে দিচ্ছি। আমি কারও দয়া চাই না। আমি জীবনে কারও দয়া নিয়ে মানুষ হইনি”।

তাঁর মুখে এমন কথা শোনার পর উত্তীর্ণ সভাঘরে যেন হঠাৎ নীরবতা তৈরি হয়। মন্ত্রী বিধায়করা একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে শুরু করেন। খানিক থেমে মমতা ফের বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এক টাকাও নিই না। আমি কেন্দ্রের মন্ত্রী ছিলাম, সেখান থেকে পেনশন নিই না। আমি সাংসদ হিসাবেও পেনশনের টাকা নিই না। আমার যা রোজগার তা ওই ব‌ই বিক্রি করে রয়্যালটি থেকে যা পাই। যদি সব কিছু নিতাম তাহলে আমার তো এখন ৪০-৫০ কোটি টাকা জমানোর কথা”।

তৃণমূল সুপ্রিমোর আরও সংযোজন, “আমার বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর অনেকে বলেছিল, যদি (তাঁদের নামে) কিছু করা যায়। আমি বলে দিয়েছিলাম, না, কোনও প্রয়োজন নেই। আমার বাবা-মা কোনওদিন চাইতেন না। আমিও চাই না। মানুষের মতো মানুষ হয়ে বেঁচে থাকলে, এর থেকে বেশি কিছু চাই না। যতটা পারি, ততটা করি”।

কী প্রতিক্রিয়া বিরোধীদের?

মমতার এহেন মন্তব্যের পর বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘ জীবন ও সুস্থ্য শরীর কামনা করছি। মুখ্যমন্ত্রী হয়ত হতাশা ও আতঙ্ক থেকে এই ধরনের কথা বলছেন। ব্যক্তি আক্রমণ বা কুরুচিকর বক্তব্যের রাজনীতি বিজেপি করে না”।

বামনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, এমন কথা কারও মুখেই কাম্য নয়। তিনি আরও অনেকদিন বেঁচে থাকুন। তিনি যা তৈরি করেছেন, তার জন্য বাংলার যুব সমাজকে কীভাবে ভুগতে হচ্ছে… সেটা তিনিও হাড়ে হাড়ে টের পাবেন। উনি জীবিত থেকে বোঝার চেষ্টা করুন, তিনি কী করেছেন”।

RELATED Articles