আর জি কর আবহে স্বাস্থ্যসাথীর টাকার নয়ছয়ের অভিযোগ, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার

রাজ্যের মানুষের চিকিৎসাক্ষেত্রে উন্নতিসাধনের জন্য স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে সরকারি তো বটেই বেসরকারি হাসপাতালেও সুচিকিৎসার সুযোগ পান রাজ্যের মানুষ। এর আগে এই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে নানান বিতর্ক হয়েছে। এবার এই কার্ডের মাধ্যমে টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ তুললেন মমতা নিজেই। এই বিষয় নিয়ে রাজ্য পদক্ষেপ করবে বলেও জানান তিনি।

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে দীর্ঘদিন কর্মবিরতি পালন করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। আর ঘটনাচক্রে সেই সময়টাতেই রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যসাথী খাতে খরচ বেড়েছে বলে দেখা যায়। সরকারি হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করে পরিষেবা না দিয়ে কিছু কিছু চিকিৎসক সেই সময় দিব্য বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। আর সেই কারণেই স্বাস্থ্যসাথী খাতে খরচ বেড়েছে রাজ্যের।

চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আগেও করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কিছু বলেন নি। এবার আজ, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তিনি বললেন, “কখনও কখনও অপ্রিয় সত্য বলতে নেই। হয়েছে এমন অনেক কিছু। আমাদের অনেক টাকা বেরিয়ে গেছে। আর জি কর মামলা বিচারাধীন। তাই ধরতে পেরেছি। এই স্বাস্থ্যসাথীর টাকা নিয়ে চিকিৎসা করেছে। আমি ভালো করে তদন্ত করেছি। ডবল ক্রস করছি”।

মমতা স্পষ্ট জানান, “এই টাকা যে অপব্যবহার করেছে..। এটা তদন্ত করে শাস্তি হবে। আপনার ইচ্ছা না থাকলে কাজ করবেন না। কিন্তু জনগণের টাকা মিস ইউজ করা যায় না। কে কীভাবে সেটা করেছে সেটার তদন্ত করে এটার শাস্তি হবে”।

আরও পড়ুনঃ ‘আপনারাও চলে আসুন আমাদের দিকে, নাহলে সিট হাতছাড়া হবে…’, ভরা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অগ্নিমিত্রাকে তৃণমূলে আহ্বান ফিরহাদের

সম্প্রতি এক সমীক্ষায় পাওয়া হিসেব অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সময়টাতে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ৩১৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় এই খরচ অনেকটাই বেশি বলে দাবী রাজ্যের। নবান্ন সূত্রের খবর, চিকিৎসকদের কর্মবিরতির জেরে ওই সময়কালে স্বাস্থ্যসাথী খাতে দৈনিক গড়ে ৭ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। চিকিৎসকদের আন্দোলনের জেরে দৈনিক ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা বাড়তি খরচ হয়েছে সরকারের, এমনটাই দেখা গিয়েছে হিসেবে।

RELATED Articles