রাজ্যপালকে অপসারণের দাবী মমতার, চিঠি দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে

আর কোনও লুকোছাপা নয়, এবার সরাসরি রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের অপসারণ চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, মঙ্গলবার, এই দাবী জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেবেন তিনি, এমনটাই জানা গিয়েছে। এছাড়াও, বিধানসভায় রাজ্যপালের অপসারণের প্রস্তাব পেশ করবে রাজ্য সরকার, এমনটাও জানা যাচ্ছে।

ধনখড় রাজ্যপাল হয়ে আসার পর থেকেই বারবার তাঁর সঙ্গে সংঘাত বেধেছে রাজ্যের। মুখ্যমন্ত্রী-রাজ্যপাল মতান্তর সামনে এসেছে বারবার। আগেও দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে ধনখড়ের ‘কার্যকলাপ’ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে এসেছিলেন মমতা। তখন তাঁর অনুরোধ ছিল, “রাজ্যপালকে সংযত হতে বলুন”।

তাছাড়া, এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই নবান্ন-রাজভবন সংঘাত চরমে ওঠে। রাজ্যপাল নানান আক্রমণাত্মক টুইট করে বিঁধেছেন মমতা সরকারকে। আবার পাল্টা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও তাঁকে বিজেপির লোক বলে দাগা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা যে দিন শপথ নেন, সে দিনও ভোট পরবর্তী গোলমালের কথা তুলে রাজ্যপাল তাঁকে খোঁচা দেন। জবাব দেন মমতাও। একই ঘটনা ঘটে বাকি মন্ত্রীদের শপথের দিনেও। পর্যবেক্ষকদের মতে, যা ওই ধরনের অনুষ্ঠানে নজিরবিহীন। সর্বশেষ দু’টি ঘটনার একটি হল নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আগেই নারদ কাণ্ডে অভিযুক্ত দুই ভাবী মন্ত্রী এবং এক তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে সিবিআইকে সম্মতি দেওয়া। অন্যটি, কোভিড পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি অগ্রাহ্য করে বিজেপি নেতাদের সঙ্গী করে ‘সন্ত্রাস’ দেখতে বেরিয়ে পড়া।

আরও পড়ুন- পুড়ল মুখ! তাবড় নেতাদের গ্রেফতার করে আদালতে পর্যাপ্ত নথি পেশ করতে পারলো না সিবিআই! 

গতকাল, সোমবার তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের গ্রেফতার করে সিবিআই। এর জেরে নিজাম প্যালেসের বাইরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। এই নিয়েও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে বলে রাজ্য সরকারকে বিঁধে একাধিক টুইট করেন ধনখড়। মুখ্যমন্ত্রী তখন নিজাম প্যালেসে। তখনও কিচ্ছুটি বলেননি তিনি। এরপর স্থির করেন রাজ্যপালের অপসারণের দাবীতে। চিঠি যাচ্ছে দিল্লিতে। এছাড়াও বিধানসভাতেও রাজ্যপালের অপসারণের দাবী চেয়ে প্রস্তাব করবে রাজ্য সরকার। ডাক দেওয়া হবে রাজ্যপালকে ‘বয়কট’-এর।

RELATED Articles