প্রশাসনিক বৈঠকে মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়কদের দাবী শুনে রেগে গেলেন তিনি। ইসলামপুরের বিধায়ক আবদুল করিম চৌধুরী পৃথক ইসলামপুর জেলার দাবী করেন। সেই শুনেই বেশ রেগে যান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “প্রশাসনিক বৈঠকে এসব দাবি করা ঠিক নয়। এরপর তো অফিসার পাওয়া যাবে না। সদ্যই এতগুলি জেলাকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, দূরত্ব দেখে দাবি করুন! সুন্দরবন কতটা বড় জানেন? এবার তো বলবেন ঘরের মধ্যে সাব ডিভিশন করে দিন। সদ্য জিতেছেন এবার ভালো করে কাজ করুন”।
বিধায়কদের দাবী শুনে এদিন রাজ্যের রাজস্বের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি বিধায়কদের নানান দাবী শুনে বেশ রেগে যান মমতা। বলেন, “আপনারা একটা কাজ করুন। ম্যাজিশিয়ান নিয়ে আসুন, তাঁকে বলুন টাকা দিতে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আমার কোটি কোটি টাকা যাচ্ছে। কেন্দ্র একটা টাকা দেয় না। করোনায় সব শেষ। আর্নিং নেই, শুধুই বার্নিং। আগামী ২ বছর কিছু চাইবে না। এখন ভালো করে কাজ করুন। সব দাবি মানা সম্ভব নয়”। উল্লেখ্য, বিধায়ক আবদুল করিম চৌধুরীকে ভর্ৎসনা করলেও পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলে পরিবারের খবরও নেন মুখ্যমন্ত্রী।
আপাতত উত্তরবঙ্গের সফরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ, মঙ্গলবার সকালে প্রশাসনিক বৈঠকের জন্য মালদা থেকে রায়গঞ্জ যান তিনি। এদিন রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় দুই দিনাজপুরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের এই বৈঠকে মমতা জানান যে আগামী ২-৩ মাসের মধ্যেই সমস্ত পুরভোট হবে।
এদিনের এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে গতবারের দুয়ারে সরকার প্রকল্পে তিন কোটিরও বেশি মানুষ সুবিধা পেয়েছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে দুয়ারে সরকার প্রকল্প বড় মাঠে আয়োজন করার কথা বলেন তিনি। এছাড়াও এদিন তুলাইপঞ্জি চালের চাষ নিয়েও খবররাখবর নেন তিনি। এই তুলাইপঞ্জি চাল রফতানিতে বেশ বড় অঙ্কের আয় রয়েছে রাজ্যের। এই কারণে এই চাল চাষের পরামর্শ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে রায়গঞ্জ -বারসই রাস্তার কাজ শেষ করার আবেদন জানান রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। কৃষ্ণবাবুর এই প্রস্তাবে সহমত পোষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।





