অন্যান্য দিনের মতোই ব্যস্ততা ছিল গঙ্গার ঘাটে। কেউ বসে গল্প করছিলেন তো কেউ আবার নিজের কাজ সারছিলেন। এমন সময়ই কচুরিপানা ঝোপের মধ্যে থেকে কী যেন একটা দেখা গেল। আর তা দেখেই রীতিমতো শিউড়ে উঠল ঘাটে থাকা মানুষজন। নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করতেই পারছিলেন না তারা। কুমির? এও কী সম্ভব?
শ্রীরামপুরের কালিবাবুর শ্মশানঘাটে ঘটল এই ঘটনা। আজ, মঙ্গলবার সকালে সেখানে দেখা মিলল এক মৃত কুমিরের। প্রাণীটি উল্টে পড়েছিল। লম্বা লেজ, গায়ে আঁশ ভর্তি।
গঙ্গার ঘাটে কুমির দেখতে পাওয়া গিয়েছে খবর জানাজানি হতেই এলাকার মানুষদের ভিড় হতে থাকে কালিবাবুর ঘাটে। এক পড়ুয়া জানায়, “আমরা পড়তে গেছিলাম। ছুটি হওয়ার পর শুনি গঙ্গার ঘাটে একটি কুমির দেখতে পাওয়া গিয়েছে।তারপর এখানে চলে আসি। এসে দেখি যে একটি কুমির মরে পড়ে রয়েছে”।
অন্যদিকে, পৌরসভার তরফে জানানো হয়েছে যে “একটি কুমির উদ্ধার হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটি মরা। ইতিমধ্যে বনদফতরকে খবর দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পৌরসভার সেক্রেটারি ইনস্পেক্টরকেও ডাকা হয়েছে। এখন অপেক্ষায় রয়েছি বনদফতরের। তাঁরা যেভাবে জানাবে পৌরসভা সেইভাবে কাজ করবে”।
পৌরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য সন্তোষ সিং জানান, “এই গঙ্গারঘাটে প্রচুর মানুষ স্নান করেন। হঠাৎ করে এমন কুমির চলে এল। এটা ভয়ের ব্যাপার। এইবার না হয় মৃত কুমির এসেছে। এরপর হঠাৎ করে জীবিত কুমির চলে এলে খুব সমস্যা তৈরি হবে।কারণ প্রতিটি ঘাটে মানুষ স্নান করে।সেই কারণে এটি আমাদের কাছে ভয়ঙ্কর ব্যাপার। তাই বনদফতরকে আমরা গোটা বিষয়ের তদন্ত করতে বলেছি”।
এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর মৃত কুমিরের দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায় বনদফতরের কর্মীরা। বিট অফিসার সোমেশ ভট্টাচার্য বলেন, “দেহটির ময়নাতদন্ত করে দেখা কীভাবে মৃত্যু হয়েছে। তবে কোথায় থেকে শ্রীরামপুর ঘাটে মৃত কমির এলো বোঝা যাচ্ছে না। হতেও পারে এটি সেই মুর্শিদাবাদ বা নদিয়াতে দেখতে পাওয়া মৃত কুমিরটি। ভেসে ভেসে চলে এসেছে। বাকিটা এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না”।
এদিন শ্রীরামপুরের কালিবাবুর শ্মশানঘাটে এই মৃত সরীসৃপটি ভেসে উঠতেই ভিড় জমে এলাকাবাসীর। মৃত প্রাণীটি সত্যিই কুমির কী না, তা নিয়ে তদন্ত করবে বন দফতর।





