আনিস খান হত্যাকাণ্ডে গোটা বাংলা তোলপাড়। এই পরিস্থিতিতে এবার ছাত্রনেতার হত্যাকাণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য হস্তক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী ও ডিজির নেতৃত্বে সিট গঠনের নির্দেশ দেন তিনি।
মমতা বলেন, “দোষী হলে আমিও শাস্তি পাব। দোষীদের রেয়াত করা হবে না”। এমনকি আনিসকে নিজেদের লোক বলেও পরিচয় দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
আজ, সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল। এদিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিট গঠনের নির্দেশ দেন। মুখ্যসচিব, ডিজির পাশাপাশি সিটে থাকবে সিআইডিও। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি আনিসের সঙ্গে তৃণমূলের সখ্যতার কথাও এদিন বলেন মমতা।
তাঁর কথায়, “অনেকে এখন অনেক কথা বলছেন। কিন্তু ওঁরা জানেন না, আনিস আমাদের লোক ছিল। আমার সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল। নির্বাচনে আমাদের অনেক সাহায্য করেছিল। আমাদের ফেভারিট লোক ছিল। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হবে। কেউ ছাড় পাবেন না”।
হাওড়ার আমতায় ছাত্রনেতা আনিস খানকে ছাদ থেকে ফেলে খুন করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার সঙ্গে পুলিশ জড়িত এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে আনিসের পরিবারের তরফে। এই ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। রাজনৈতিক চাপানউতোরও কম নয় এই ঘটনাকে ঘিরে।
এই পরিস্থিতিতে এবার আনিস খান হত্যাকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, সকালেই উলুবেড়িয়ার সাংসদ সাজদা আহমেদ ও রাজ্যের মন্ত্রী পুলক রায় দেখা করতে যান আনিসের পরিবারের সঙ্গে। তারা জানান যে মুখ্যমন্ত্রী মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চান। পরিবারকে নবান্নে ডেকে পাঠিয়েছেন মমতা।
আনিসের বাবা সালাম খান প্রাথমিকভাবে নবান্নে যেতে রাজি হয়েছিলেন। তবে পরে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। পরিবারের তরফে জানানো হয়, সালাম খান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে সালাম জানান, “আমি নবান্নে যেতে পারছি না, অসুস্থ। উনি (মুখ্যমন্ত্রী) এখানে এলে ভাল হয়। কথা বলব”। এবার এই টানাপোড়েনের মাঝেই সিট গঠনের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।





