পঞ্চায়েত ভোটে (panchayet election) আসন্ন। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতে উঠেপড়ে লেগেছে তৃণমূল। এরই মধ্যে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে কার্যত কড়া নির্দেশ দিয়ে বললেন, “পঞ্চায়েত চোর ধরো, এফআইআর করো”। তিনি এও বলেন যে আর্থিক দুর্নীতি (corruption) বা আর্থিক তছরুপ হলে, টাকা উদ্ধারের নির্দেশও দিয়েছে। এই নিয়ে পাল্টা তোপও দেগেছে বিরোধী পক্ষ।
রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতির জেরে তৃণমূল কার্যত এখন কোণঠাসা। এসএসসি দুর্নীতির জেরে একদিকে জেল খাটছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে দলের সমস্ত পদ ও মন্ত্রিত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আবার অন্যদিকে, গরু পাচার মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। যদিও তৃণমূল নেত্রী অনুব্রতর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তবে দুই নেতার গ্রেফতারির জেরে তৃণমূল এখন চাপের মুখে।
এদিকে কেন্দ্রের ১৫টি দল এখন রাজ্যের নানান প্রান্তে ঘুরছে। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীকে রিপোর্ট দিয়েছেন কেন্দ্রীয় দলের সদস্যরা। এই রিপোর্টে বাংলার আবাস যোজনায় আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একদিকে যখন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে, সেই সময় এবার জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
নবান্ন সূত্রের খবর, জেলাপ্রশাসনকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে তাতে প্রধানত দু’টি প্রকল্পের ব্যাপারে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল একশো দিনের কাজ প্রকল্প। এই নোটিশে বলা হয়েছে যে গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় যাদের জব কার্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের নাম অবিলম্বে জেলা পোর্টালে তুলতে হবে। এর পাশাপাশি যে ক্ষেত্রে একশো দিনের কাজ প্রকল্পে হিসাব দেখিয়েও কাজ হয়নি, অর্থাৎ ভুয়ো খরচ দেখিয়ে টাকা তোলা হয়েছে, সেখানে অবিলম্বে সেই টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। আর এই কারণে এফআইআর করা, শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া, সব ধরনের পদক্ষেপের নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নোটিশের প্রেক্ষিতে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “কে কাকে ধরবে? কে কার চুরির পর্দাফাঁস করবে? কে কার বিরুদ্ধে এফআইআর করবে? মুখ্য়মন্ত্রী তো এর আগেও বসেছিলেন, কাটমানি ফেরত দাও। মানুষ দেখেছিলেন, কাটমানি ফেরত দেওয়ার লাইন পড়ে গিয়েছিল। এখন লোকজন রাত্রিবেলা চলে যাচ্ছে, পঞ্চায়েতে কাগজপত্র পালটাচ্ছে, আগুন ধরাচ্ছে’। তাঁর দাবি, ‘নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক রূপচর্চা। আপনি ফেসসিয়াল করে, বা স্কিন ট্রিটমেন্ট করে চেহারায় জৌলুস আনতে পারেন, কিন্তু ভিতরের জিনিসপত্র পালটানো যায় না”।
অন্যদিকে আবার সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এখন যা বলছেন, তা কম-বেশি মূল্যহীন। ধরা পড়ে গিয়েছেন। সারা মুখে আলকাতরা। নতুন কথা কী! ১১ বছর সরকার চালানোর পর মনে হল এফআইআর করতে হবে! জানতেন না, ব্যাপক দুর্নীতি, একশোর দিনে টাকা লুঠ, পঞ্চায়েতে লুঠ। সরকারের কোনও সাধু উদ্দেশ্য় আছে বলে মনে হয় না। রেজাল্ট কথা বলবে”।





