‘জোটের নেতৃত্বরা আমাকে দেখতেই পারে না…’, ইন্ডি জোট নিয়ে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

লোকসভা নির্বাচনের আগে যেভাবে মাথাচাড়া দিয়েছিল, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সেই ইন্ডি জোটই কেমন যেন ছন্নছাড়া হয়ে গিয়েছে। বিরোধী জোটের দলগুলির মধ্যে আর সেই একই সুর শোনা যায় না। আবার সদ্য শেষ হওয়া উপনির্বাচনেও জোটের দলগুলির মধ্যেই রেষারেষির ছবি ধরা পড়েছে। এমন আবহে এবার ইন্ডি জোট নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবী করেন, তিনি বাংলায় থেকেই ইন্ডি ব্লক চালানোর ক্ষমতা রাখেন। বিরোধী জোট নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “আমি তো নিজে ইন্ডি জোট তৈরি করে দিয়েছিলাম”। কিন্তু সেই জোটই আজ ছন্নছাড়া। জোট কী তাহলে ভেঙে যাওয়া পথে?  

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “তারা সবাইকে একজোট করে রাখতে পারছে না তো আমি কী করব? আমি তো সেই জোটের নেতৃত্বে নেই। যারা লিডার, তাদের এটা দেখা উচিত। তবে আমার সঙ্গে সমস্ত আঞ্চলিক ও জাতীয় দলের যোগাযোগ রয়েছে। আমি সবার সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলি”।

মমতার কথায়, জোট নেতৃত্ব নাকি তাঁকে দেখতে পারে না। তিনি বলেন, “যারে দেখতে নারি তার চলন ব্যাঁকা। আমাকে দেখতেই পারে না। তবে আমি দায়িত্ব পেলে এটুকু বলতে পারি… যদিও আমি তা চাই না। আমি বাংলার মাটি ছেড়ে কোথাও যেতে চাই না। এখানেই জন্মেছি, শেষ নিশ্বাস এখানেই ত্যাগ করব। কারণ বাংলাকে আমি এতটাই ভালোবাসি। কিন্তু এটুকু আমি মনে করি, এখানে বসেও আমি এটা চালিয়ে দিতে পারি”।

উল্লেখ্য, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিকে ঠেকাতে দেশের নানান বিরোধী দলগুলি একজোট হয়ে ইন্ডি জোট গঠন করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিককালে সেই জোটেই ফাটল দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টিকে দেখা গিয়েছে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে। অন্যদিকে আবার বিরোধীদের প্রতিবাদের জেরে লোকসভার নিম্নকক্ষ প্রায় অচল হয়ে যায় গত সপ্তাহে।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে থামছে না হিংসা! ফের ঢাকার এক ইসকন সেন্টারে আগুন লাগাল দুষ্কৃতীরা, পুড়ে গেল লক্ষ্মীনারায়ণের মূর্তি 

যদিও তৃণমূল মোটেই চায় না, এভাবে নিম্নকক্ষ অচল হয়ে যাক। এই বিষয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “আদানি ইস্যুতে নিশ্চিতভাবে সংসদে প্রতিবাদ হবে। তা বলে ওই ইস্যুতে লাগাতার সংসদ অচল করে যদি বন্ধ করা হয়, তাহলে রাজ্যগুলি নিজেদের বক্তব্য সংসদে রাখবে কীভাবে? ১০০ দিনের কাজ, আবাসের বঞ্চনা নিয়ে বাংলারও কথা বলার আছে সংসদে। শুধু আদানি আদানি করে সংসদের কাজ বন্ধ করলে তো বিজেপিরই লাভ। বিজেপিরই উদ্দেশ‌্য চরিতার্থ হবে”। 

RELATED Articles