হিন্দু ধর্ম বোঝাতে এলে বিজেপির কান মুলে দিন! এ কী নিদান দিলেন মমতা?

আজকে নামখানায় এসে তৃণমূলকে রীতিমতো কটাক্ষ বাণে বিদ্ধ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাতে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ ক্ষিপ্ত হয়েছেন তা তার বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট। তিনি দাবি করেছেন যে তিনি বিজেপি নেতাদের কান মুলে হিন্দুধর্ম কী সেটা শেখাবেন! আর এখানেই উঠেছে বড় প্রশ্ন। মুখ্যমন্ত্রী সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাসী হলেও নিজের ধর্মের অনুষ্ঠানে তাঁকে কতটা দেখা যায় বা বলতে শোনা যায়, তা সঠিকভাবে কারোর মনে নেই।

আজকে নামখানাতে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ অভিযোগ করেছেন যে, বাংলায় সরস্বতী পুজো আগে হতো না। বিজেপির চাপেই এই রাজ্যে সরস্বতী পুজো চালু হয়েছে। দুর্গাপুজোও হয় না।

এরপরেই মমতার রেগে গিয়ে পৈলানের সভা থেকে বলে বসেছেন, “দুর্গাপুজো না হলে ক্লাবগুলি কীভাবে টাকা পাচ্ছে?” আর এখানেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাহলে কি শুধু ক্লাবে টাকা দেওয়াই মানে দুর্গাপুজোয় মমতার শামিল হওয়া?

তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, “ওঁরা তো সরস্বতী পুজোর মন্ত্রই জানে না। বিজেপি নেতারা বাংলার সংস্কৃতি, শিষ্টাচার, ভদ্রতা সম্পর্কে কিচ্ছু জানে না।” কিন্তু এর আগে বেশ কয়েকটি ভিডিও রীতিমতো ভাইরাল হয়েছিল যেখানে দেখা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং সর্বসমক্ষে সরস্বতী মন্ত্র ভুল বলেছিলেন। যা নিয়ে তৈরি হয়েছিল অজস্র মিম।

মমতা আজকে রীতিমত হুমকি দিয়েছেন যে, “আমরা যে কাউকে কান ধরে হিন্দু ধর্ম শিখিয়ে দেব। বাড়ি গিয়ে মা-বোনেদের ভুল বোঝালে সোজা কান মুলে দিন। এতে তো আর মামলা হয় না।” একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি প্রকাশ্যে বিরোধীদলের নেতাদের কান মুলে দেওয়ার কথা বলছেন। এটা কি শান্তির বাণী? তিনি যে দাবি করেছেন, কান ধরে তিনি হিন্দু ধর্ম শিখিয়ে দেবেন কিন্তু হিন্দু ধর্মের উন্নতি সাধনে তিনি ঠিক কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এতদিনে তা জানতে চায় সাধারণ মানুষ।অনেকেই বলছেন যে, আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মনিরপেক্ষতা দেখাতে গিয়ে নিজের ধর্মকে উপেক্ষা করে ফেলছেন যেটা কখনোই ঠিক নয়।

মমতা আজ জানিয়েছেন, ধর্মের ভিত্তিতে এই রাজ্যের ভোট ভাগ করতে দেবে না তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী কি নিজেই ইমাম ভাতা, পুরোহিত ভাতা চালু করে ধর্মের ভিত্তিতে ভোট ভাগ করেননি পশ্চিমবঙ্গে? উঠছে প্রশ্ন।

RELATED Articles