Mamata Banerjee : পুজো উদ্বোধনে জিএসটিতে ২০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের!

শারদোৎসবের আবহে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও জনসংযোগের মঞ্চে। শনিবার থেকে একের পর এক পুজো উদ্বোধনে হাজির হচ্ছেন তিনি। রবিবার মহালয়ার দিনও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। দক্ষিণ কলকাতার চেতলা অগ্রণীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী পুজোর আনন্দ ভাগ করে নিলেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। তবে উৎসবের আবহের মাঝেই উঠে এল রাজনীতি এবং রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর কড়া বার্তা।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয় জিএসটি নিয়ে তাঁর ক্ষোভ। তিনি দাবি করেন, বিমার উপর থেকে জিএসটি সরানোর উদ্যোগে প্রথম চিঠি দিয়েছিলেন তিনিই। রাজ্যের অর্থমন্ত্রীও জিএসটি কাউন্সিলে সেই লড়াই চালিয়েছিলেন। যদিও নিয়ম কার্যকর হলেও কেন্দ্র তার কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না বলেই অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, এই নিয়ম চালু হওয়ায় শুধু বাংলারই প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র এখনও রাজ্যের প্রায় ১ লক্ষ ৯২ হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

বক্তৃতায় মমতা জোর দিয়ে বলেন, কুটির শিল্প থেকে উৎপাদন শিল্প—সবেতেই বাংলা এক নম্বরে। একশো দিনের কাজেও সেরা স্থান পেয়েছিল রাজ্য। তবু কেন্দ্র অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এমনকি জনস্বাস্থ্য প্রকল্পের ক্ষেত্রেও ৯০ শতাংশ অর্থ বহন করতে হচ্ছে রাজ্যকেই। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্র বারবার বাংলার উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

জিএসটির পাশাপাশি বাঙালি অস্মিতা নিয়েও সরব হলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকদের ওপর অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। হোটেলে ঢুকতে বাধা, কাজে যোগ দিতে বাধা—এসবই হচ্ছে বাঙালি পরিচয়ের কারণে। মমতা বলেন, “আমরা তো হিন্দি ভাষাভাষীদের সঙ্গে কখনও খারাপ ব্যবহার করি না, তাহলে আমাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের কেন অপমান করা হবে?”

আরও পড়ুনঃ Astrology: শুক্র গোচর ২০২৫! অক্টোবরে ৪ বার খেলা দেখাবে সম্পদের গ্রহ, ভাগ্য খুলবে ৩ রাশির

উৎসবের আবহেই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সাংস্কৃতিক উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করেন। তিনি জানান, জগন্নাথ ধামের পর এবার তৈরি হচ্ছে দুর্গা অঙ্গন। এর জন্য জমি ইতিমধ্যেই মিলেছে এবং একটি ট্রাস্টও গঠন করা হয়েছে। পুজোর আবহে এই ঘোষণায় খুশি হন উপস্থিত সাধারণ মানুষ। একদিকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অন্যদিকে বাংলার সাংস্কৃতিক উদ্যোগ—সব মিলিয়ে মহালয়ার দিনে মমতার বক্তৃতা হয়ে উঠল রাজনৈতিক বার্তা ও উৎসবের আনন্দের মিশ্রণ।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles