Kolkata: মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বাড়ছে অতিরিক্ত খরচ! কলকাতায় বাড়লো ফ্ল্যাটের দাম, সাত বছর পর নতুন ‘প্রপার্টি সার্কল রেট’ বৃদ্ধি!

কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার আবাসন বাজারে বড় পরিবর্তনের আগাম সংকেত মিলেছে। দীর্ঘ সাত বছরের বিরতির পর এবার রাজ্য সরকার ‘প্রপার্টি সার্কল রেট’ পুনর্নির্ধারণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ক্রেতাদের ব্যয়তালিকায় সরাসরি দেখা দেবে। বাজারে থাকা ফ্ল্যাট বা জমির ক্রয়ের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি বৃদ্ধির কারণে বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এত দিন অনেক অঞ্চলে ফ্ল্যাটের বাজারদর এবং সরকারি স্বীকৃত সার্কল রেটের মধ্যে বড় ফারাক ছিল। উদাহরণস্বরূপ, শহরের কিছু এলাকায় ফ্ল্যাটের বাজারদর ছিল প্রায় ৯ হাজার টাকা প্রতি বর্গফুট, কিন্তু সার্কল রেট মাত্র ৬ হাজার টাকা। এই অমিল দূর করতে নতুন রেট নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, সল্টলেক সংলগ্ন মহিষবাথানে সার্কল রেট ৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২,০৬৫ টাকা প্রতি বর্গফুটে পৌঁছেছে। টলিগঞ্জের রেটও এখন ১০,২১২ টাকা প্রতি বর্গফুট। উত্তর কলকাতার বরাহনগর সংলগ্ন বিটি রোডের প্রজেক্টগুলিতে রেট প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৪,৭০৮ টাকা থেকে ৮,৮৫০ টাকা প্রতি বর্গফুটে উন্নীত হয়েছে।

এই রেট বৃদ্ধি ক্রেতাদের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে এক কোটি টাকার নীচে ফ্ল্যাটের জন্য স্ট্যাম্প ডিউটি ৬ শতাংশ এবং এক কোটির বেশি হলে ৭ শতাংশ ধার্য হয়। নতুন সার্কল রেট অনুযায়ী বহু তিন বেডরুম এবং কিছু দুই বেডরুম ফ্ল্যাটের দাম এক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর ফলে ক্রেতাদের অতিরিক্ত স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে, যা মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বিশেষভাবে বোঝা বাড়াবে।

কয়েকটি নামজাদা আবাসন সংস্থা মনে করছে, বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সার্কল রেট বৃদ্ধি স্বাভাবিক। তবে কিছু ক্ষেত্রে নতুন রেট বাজারদরকেও ছাড়িয়ে গেছে, যা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। অতিরিক্ত রেট আয়কর সংক্রান্ত সমস্যার জন্ম দিতে পারে এবং বিক্রয় প্রক্রিয়াকে ধীর করতে পারে। ফলে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা আপাতত অপেক্ষা করতে পারেন এবং বিক্রেতাদেরও দাম সমন্বয় করতে হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : পুজো উদ্বোধনে জিএসটিতে ২০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের!

বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, দীর্ঘমেয়াদে আবাসন বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না। কেননা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে মূলত বাজারদর, ব্যক্তিগত আর্থিক সামর্থ্য এবং চাহিদাই প্রধান। নতুন সার্কল রেট কেবল প্রক্রিয়াগত সামঞ্জস্য। তবে স্বল্পমেয়াদে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনার পথে অতিরিক্ত করের বোঝা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থিত হবে। সাত বছর পর এই পরিবর্তন রাজ্যের রাজস্ব আয় বাড়াবে, তবে ক্রেতা-বিক্রেতার উপর নতুন চাপও তৈরি করবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles