দলে গোষ্ঠীকোন্দল কিছুতেই থামছে না। লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন তা আরও প্রকট হয়ে উঠছে। এই নিয়ে বারবার দলের নেতা-কর্মীদের বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, দলের সমস্যা দলের অন্দরেই মেটাতে, তা নিয়ে যেন বাইরে কোনও আলোচনা না করা হয়। কিন্তু তাও শুনছে কে!
দলের নেতা-কর্মীদের এও বলা হয়েছে, কোনও সমস্যা থাকলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সিকে অভিযোগ জানাতে। সংবাদমাধ্যমে যাতে মুখ না খোলা হয়। কিন্তু তা মানেন নি অনেকেই। এবার এই নিয়ে তৃণমূলের বৈঠকে ধমক দিলেন দলনেত্রী। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে প্রকাশ্যে তুলোধোনা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী ঘটেছিল ঘটনাটি?
গতকাল, শুক্রবার কালীঘাটে মুর্শিদাবাদের তৃণমূল সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই বৈঠকেই হুমায়ুন কবীরকে মুখ খোলা নিয়ে সতর্ক করছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক চলাকালীন অভিষেকের কাছে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন হুমায়ুন কবীর। এর পালটা আবার কিছু বলতে যান অভিষেক। এর জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত আসরে নামেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুমায়ুনকে কড়া ধমকের সুরে তিনি বলেন, “তুমি বড্ড বেশি কথা বলছ”।
তৃণমূল সূত্রে খবর, এদিনের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দলীয় নেতৃত্বের তরফে হুমায়ুন কবীরকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এমনকী এও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে দলের দুই প্রথম সারির নেতা সুব্রত বক্সি ও ফিরহাদ হাকিম যৌথভাবে মুর্শিদাবাদের সাংগঠনিক কাজকর্ম দেখভাল করবেন।
এদিন আবার মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের কথা বলতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর অধীর চৌধুরীর প্রসঙ্গ তোলেন। তাতে মমতা বলেন, “ওটা কোনও ফ্যাক্টর নয়। ৫ বার বিজেপির টিকিটে জেতা লোক। মুর্শিদাবাদ জেলার সাড়ে তিনটি আসনে আমরা জিতব। কারণ, মুর্শিদাবাদের দুটি বিধানসভা – শামসেরগঞ্জ ও ফরাক্কা মালদহ উত্তর লোকসভা এলাকার মধ্যে পড়ে। সেই দুটি বিধানসভা আসনে গতবার অর্থাৎ ২০১৯-এ কংগ্রেস লিড পেয়েছিল। এই দুটি আসনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে”।
এদিন বৈঠকে সকলের উদ্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”জেলায় জেলায় ভালো ফল হয়েছে। পঞ্চায়েতেও সিংহভাগ আমরা জিতেছি। কিন্তু কিছু কিছু নেতা যদি ভাবেন জিতে মৌরসিপাট্টা জমাবেন, তাহলে ভুল হবে। আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না”।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার