রাজপথে ধুলোয় বসে থাকা এই মানুষগুলোকে দেখে বোঝার উপায় নেই, তাঁরা কেউ কেউ মাস্টার্স করা, কেউ প্রশিক্ষিত শিক্ষক। তাঁদের চোখে এখন শুধুই অনিশ্চয়তা, কানে বাজে প্রতিশ্রুতির গুঞ্জন। যাঁরা একসময় স্কুলের ঘরে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার কথা বলতেন, আজ তাঁদের ভবিষ্যৎই যেন প্রশ্নের মুখে। দিনের পর দিন কাগজের শিরোনামে ঘুরছে তাঁদের কথা, কিন্তু বাস্তবের ছবিটা এখনও যেমন ছিল, তেমনই রয়ে গেছে।
তীব্র গরমে রাস্তার ধারে দিন-রাত এক করে বসে থাকা এই মানুষগুলোর হাতেই ছিল নিয়োগপত্র। আজ তাঁদের পরিচয়—‘চাকরি হারানো শিক্ষক’। কখনও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, কখনও সরকারের প্রতিশ্রুতি—তাঁরা প্রতিবারই একটা নতুন আশার আলো দেখেছেন। কিন্তু সেই আলো যেন প্রতিবারই কিছুদূর গিয়েই নিভে গেছে। অবশেষে ভরসা রাখছেন শুধুই আন্দোলনের উপর।
মঙ্গলবার মেদিনীপুরে সরকারি অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যোগ্য-অযোগ্য তালিকা নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন? এটা দেখবে রাজ্য সরকার আর আদালত।” পাশাপাশি তিনি এও বলেন, “আমি কলকাতায় থাকলে এক সেকেন্ডে সমস্যার সমাধান করে দিতাম। টেন্টেড না আনটেন্টেড, সেটা তো আপনার দেখার বিষয় নয়।” এমন সময় এই বক্তব্য সামনে আসতেই ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। প্রশ্ন উঠছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের দায় কি কমিশন নিতে চাইছে?
SSC আগেই জানিয়েছিল, ২১ এপ্রিলের মধ্যে প্রকাশ পাবে যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা। কিন্তু সোমবার সেই তালিকা সামনে আসেনি। ফলে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা রাতভর অবস্থান চালিয়ে যান কমিশনের সামনে। পরদিন দুপুরেও সেই আন্দোলন অব্যাহত থাকে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এত গরমে বসে থেকে লাভ কী? যাঁদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কোর্ট, তাঁরা স্কুলে ফিরে যান। সরকার বেতন দেবে।”
আরও পড়ুনঃ Ssc scam : ডিএম অফিসে বিজেপির অভিযান, মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগের দাবি তুলে চুঁচুড়ায় তীব্র বিক্ষোভ!
যদিও মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, বেতনের চিন্তা না করে শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে যান, কিন্তু তালিকা প্রকাশ না হলে প্রকৃত নিয়োগপ্রাপ্ত কারা, তা নিয়ে বিভ্রান্তি থেকেই যাচ্ছে। অনেকের মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তৈরি হওয়া ক্ষোভকে সামাল দিতেই এই তালিকা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এখন প্রশ্ন, সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে SSC কি আন্দোলনকারীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে? যতদিন না সুস্পষ্ট তালিকা সামনে আসে, ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন চাকরি হারানো শিক্ষকরা।





