কাটমানি দল হিসাবে এমনিতেই বিখ্যাত তৃণমূল। এবার খোদ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের মুখে এই অভিযোগ পেয়ে রীতিমতো বিব্রত রাজ্য সরকার। রাজ্যে করোনা চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের সঙ্গে মমতা সরকারের দ্বৈরথ বেঁধে গিয়েছে। এবার রাজ্যপাল এই বিষয়ে প্রশ্ন করলেন যে, ‘কেনাকাটার কাটমানি কোথায় গেল?’
রাজ্যপাল এদিন এক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে লেখেন, “আর্থিক বেনিয়ম এবং নির্দিষ্ট কয়েকজনের লাভবান হওয়ার খবরে আমি যারপরনাই বিরক্ত।” এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “এবার পর্দা সরিয়ে আসল তথ্য বাইরে আনুন।”
https://twitter.com/jdhankhar1/status/1296690621621481473?s=20
আমফান ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি হোক বা করোনার সরঞ্জাম কেনা, তৃণমূলের বদনামই হল সবকিছু থেকে টাকা আত্মসাৎ করা। এই ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে করোনা চিকিৎসার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন। স্বাভাবিকভাবেই এর পরে প্রচুর মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই কেনার দরকার পড়ে। সেই সংক্রান্ত বরাদ্দ টাকাতেই ধরা পড়েছে প্রবল দুর্নীতি।
https://twitter.com/jdhankhar1/status/1296690736717377536?s=20
রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ৩০ লক্ষ পিপিই, ৩৭ লক্ষ এন-৯৫ মাস্ক, ও ৪০ লক্ষ গ্লাভসের অর্ডার ছিল। এইগুলো কিনতেই ২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ধরা পড়ে। লজ্জার খাতিরে তদন্তের নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। “কেনাকাটার কাটমানি কোথায় গেল, কে বা কারা লাভবান হলেন-সেটা খোঁজাই তদন্তের একমাত্র কাজ হওয়া উচিত। এই সংক্রান্ত বিষয়ে কোথা থেকে কী কেনা হয়েছে এবং কার সিদ্ধান্তে কেনা হয়েছে তার শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে রাজ্যকে। স্বচ্ছতার অভাবেই দুর্নীতি জন্ম।” স্পষ্ট বক্তব্য রাজ্যপালের।
সংবাদমাধ্যম সূত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে থাকে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল সার্ভিসেস কর্পোরেশন লিমিটেড নামে এক সংস্থা। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রাজ্য সরকার অন্য একটি এজেন্সি থেকে এই জিনিসগুলো কিনেছে। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনা সম্পর্কে প্রথমে জানতেন না বলে খবর। তবে পরে মুখ্যমন্ত্রী তা জানতে পেরেই তদন্তের নির্দেশ দেন।





