‘আমার মনে হয় ওনার INDIA নামটা খুব পছন্দ হয়েছে’, জঙ্গিগোষ্ঠীর নামের সঙ্গে তুলনা করায় মোদীকে কটাক্ষ মমতার

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বিরোধী জোট তৈরি করেছে নানান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। সম্মিলিত এই বিরোধী জোটের নাম INDIA। এই জোটকে আজ, মঙ্গলবার ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন জঙ্গিগোষ্ঠী ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই মন্তব্য নিয়েই এবার মোদীকে শ্লেষবাক্যে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কী বললেন মমতা?

আজ, মঙ্গলবার বিকেলে রাজভবনে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে বেরোনোর পর তাঁকে মোদীর মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় ইন্ডিয়া নামটা ওনার পছন্দ হয়েছে। গ্রহণ করেছেন। মানুষও গ্রহণ করেছে। আসলে তোমরা (সাংবাদিকরা) বারবার প্রশ্ন করো, ওনাকে তো কিছু বলতে হবে। তাই হয়তো বলেছেন”।

প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বিরোধী জোটকে জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে তুলনা করেছেন, তাতে বিশেষ আমল দিতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ভারতীর দল যখন খেলতে নামে তখন সবাই ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া বলে। কেউ কি ইন্ডিয়া মুজাহিদিন বলে”? তিনি বলেন, “ইন্ডিয়া নামের সঙ্গে যুক্ত করে ওরা যত বাজে কথা বলবে তত মনে হবে যে নামটা ওনাদের পছন্দ হয়েছে”।

মোদীর এহেন মন্তব্যের বিরোধিতা করেছে নানান বিরোধী দলগুলিও

‘ইন্ডিয়া’ জোট নিয়ে মন্তব্য করায় বিরোধী শিবিরের তরফেও কটাক্ষ ধেয়ে আসে প্রধানমন্ত্রীর দিকে। রাহুল গান্ধী বলেন, “মোদিজী আমাদের যা খুশি বলুন, আমরা ইন্ডিয়া। মণিপুরকে আমরা সারিয়ে তুলব, মা-বোনদের চোখের জল মুছিয়ে দেব। সেখানকার মানুষের কাছে শান্তি ও ভালবাসা ফিরিয়ে দেব। ইন্ডিয়ার আদর্শ গড়ে তুলব মণিপুরে”।

অন্যদিকে আবার তৃণমূলের তরফেও ইতিমধ্যে বিবৃতি জারি করে বলা হয়, “আসলে মণিপুর পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে তাই বিরোধী জোটকে জঙ্গিদের সঙ্গে তুলনা করে মুখ বাঁচাতে চাইছেন। একটি গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখে এমন মন্তব্য অবিশ্বাস্য। দেশের মানুষ ও আদর্শকে অপমান করা হয়েছে এহেন মন্তব্যে। প্রধানমন্ত্রীর কথার তীব্র নিন্দা করছি আমরা”।

আচমকাই আজ রাজভবনে কেন মমতা?

মঙ্গলবার বিকেলে আচমকাই রাজভবনে হাজির হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন রাজভবন থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিধানসভার বিল সংক্রান্ত কাজেই তিনি রাজভবনে এসেছিলেন। মমতার কথায়, “যতক্ষণ বিলটা গর্ভনর পাস না করছেন, ততক্ষণ সেটা নিয়ে আমরা কিছু বলি না। এটা ডেকোরাম”। সূত্রের খবর, রাজ্যপালের সঙ্গে ফাইনান্স সংক্রান্ত দুটি বিলের বিষয়েই কথা বলতেই এদিন রাজভবনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

RELATED Articles