বাংলায় বিধানসভা ভোট হতে আর কয়েকটা মাস। তৃণমূল সরকারের গদি উল্টাবে কিনা তা সময় বলবে। কিন্তু আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ বিজেপির মনোবল বাড়িয়ে বাংলায় অমিত শাহের আগমন যথেষ্ট উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজ্য-রাজনীতিতে। বাংলার সংগঠনকে আরও মজবুত করতে দুদিনের সফরে এসেছেন ভারতীয় রাজনীতির চাণক্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (home minister Amit shah)। তাঁর চোখে এখন একটাই স্বপ্ন বাংলার মসনদে বিজেপির প্রতিষ্ঠা। আর তাই ভোটের প্রাক-প্রস্তুতি তে কোনও খামতি রাখতে চাইছেন না তিনি। জমিয়ে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ আর নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা এই চালেই বাজিমাত করতে চাইছেন অমিত।
আর সেই চক্করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে বিভিন্ন মন্তব্যে আক্রমণ করেছেন অমিত শাহ্। তবে চুপ থাকেননি বঙ্গ শাসিকাও। নাম না করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভার্চুয়াল প্রশাসনিক বৈঠকের শুরুতে রাজ্যের হালহকিকত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, হিন্দি ভাষাটা তাঁর ভালোই জানা আছে। ভালো করেই লিখতে ও বলতে পারেন। হিন্দি না শিখেও যাঁরা হিন্দিভাষী তাদের থেকেও ভালো করে ভাষাটা বলতে পারেন। তাই অমিত শাহের ‘উঠাকে ফেক দো’-র আক্ষরিক অর্থ তিনি ভালোই বোঝেন। এই ধরনের মন্তব্য করে মানুষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করা যেতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি এর পাল্টা মন্তব্য করে দিতেই পারেন, কিন্তু তখন সেটা নিয়ে জলঘোলা হবে। অযথা উত্তেজনা হবে। কিন্তু একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংযত হওয়ার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনার সূত্রপাত আজ অর্থাৎ, বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ায় অমিত শাহ সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, ‘মমতার সরকারের মৃত্যুঘণ্টা বেজে গিয়েছে। এই সরকারকে উঠাকে ফেক দো।’ গতকাল রাতে কলকাতায় পা রাখার পর থেকেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে তদারকি শুরু করে দিয়েছেন তিনি। প্রকাশ্য সভায় বলেছেন, বাংলায় পা রেখেই নাকি সর্বত্র তিনি দেখেছেন বর্তমান বঙ্গ শাসিকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (mamata banerjee) প্রতি মানুষের ক্ষোভ আর নরেন্দ্র মোদীর (narendra modi) প্রতি ভালবাসা।
বাংলায় বিজেপি শাসন প্রতিষ্ঠা করতে তুমুল আগ্রহী অমিত এর আগেও বহুবার পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বাধীন সরকারকে উপড়ে ফেলার বার্তা দিয়েছেন। ২০১৭ সালের বিজেপি-র কর্মীসভা এসেও একই বার্তা দিয়েছিলেন। এর আগেও অমিত শাহ থেকে নরেন্দ্র মোদী সকলেই মমতা বন্দ্যোাপাধ্যায়, মুকুল রায়ের নাম করে তৃণমূল কংগ্রেসকে উৎখাতের আওয়াজ তুলেছিলেন। সেই সময় মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসেই ছিলেন। মুকুল রায় এখন অবশ্য বিজেপি-র সর্বভারতীয় সহ-সভাপতিদের একজন। এমনকী রাজ্যে মমতা বিরোধী আওয়াজের অন্যতম প্রধান মুখ। আর যাঁর কাঁধে ভর করে আসন্ন একুশে বঙ্গ দখলের স্বপ্নে বিভোর পদ্ম শিবির।





