তৃণমূল এর আগে বারবার অভিযোগ করে এসেছে যে বিজেপি কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের হেনস্থা করছে। এবার বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকেও এজেন্সি নিয়ে কথা বলতে শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
বুধবার উত্তীর্ণ স্টেডিয়ামে বিজয়া সম্মিলনী আয়োজন করে তৃণমূল। দক্ষিণ কলকাতার নেতারা অংশ নেন। ছিলেন খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চে কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য রাখবেন না বলে স্থির করেছিলেন মমতা।
তবে তা সত্ত্বেও নাম না করে বিজেপি-সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। এমনকী কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইস্যুতেও সুর চড়ান মমতা। তিনি বলেন, “যখন ক্ষমতায় থাকবে না তখন এজেন্সি ২ কান মুলে দেবে। তৈরি থাকুন”।
বলে রাখি, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে কয়লা পাচার, গরু পাচার নানান মামলা নিয়ে সাম্প্রতিককালে তৎপর হয়েছে ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। গত জুলাই মাসের শেষের দিকেই এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ইডি গ্রেফতার করেছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দু’টি ফ্ল্যাট থেকে ৫০ কোটি টাকা, সোনার গয়না উদ্ধার করেছে ইডি।
আবার, গরু পাচার কাণ্ডে গত আগস্ট মাসে বোলপুরের বাড়ি থেকে সিবিআই গ্রেফতার করে অনুব্রত মণ্ডলকে আবার কয়লা পাচার কাণ্ডে ইডি বারবার তলব করেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এদিকে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির জেরে সিবিআই হেফাজতে রয়েছেন মানিক ভট্টাচার্য, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, শান্তিপ্রসাদ সিনহা, অশোক সাহার মতো শিক্ষা দফতরের নানান আধিকারিক।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির মাধ্যমে এই গ্রেফতারি বা তলবের পিছনে বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণতাই দেখছে তৃণমূল। ঘাসফুল শিবিরের দাবী, এভাবেই তাদের নেতাদের হেনস্থা করছে বিজেপি। যদিও, বিজেপির তরফে এই অভিযোগ নাকোচ করে দেওয়া হয়েছে বারবার।





