বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই মেজাজ হারাতে শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতদিন সরকারি আমলাদের লাগাতেন ধমক। এবার প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের বকাবকি শুরু করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ নবান্নে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে জানুয়ারি মাসেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের তিন শতাংশ ডিএ দেওয়া হবে। তিনি এও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তার ক্ষমতা থাক বা না থাক যেখান থেকেই হোক এই ডিএ-র টাকা তিনি জোগাড় করবেন।
এ নিয়ে পরে এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন যে তিনি কি তিন শতাংশ নাকি দশ শতাংশ ডিএ-র ঘোষণা করেছেন?
আচমকা এই প্রশ্নতে মমতা স্তম্ভিত হয়ে যান তারপরেই অগ্নিমূর্তি ধারণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রেগে গিয়ে বলেন, ‘তিন শতাংশ বলেছি.. আপনি হঠাৎ করে, আপনি কে? কে বলছেন বলুন তো?’ প্রত্যুত্তরে ওই সাংবাদিক বলেন, ‘না, না, আমাদের শুনতে অসুবিধা হয়েছে, অডিয়োতে প্রবলেম ছিল।’
তবে মমতা তখনও শান্ত হননি। সাংবাদিক তাকে আরো কিছু বলার চেষ্টা করলে মুখ্যমন্ত্রী বলতে শুরু করেন, “আপনি কি এখন থেকেই লবি করতে শুরু করেছেন? টাকাটা আপনি দিয়ে দিন না বা আপনার যে অর্গানাইজেশন আছে তাকে বলুন দিয়ে দিতে। আপনি তো আমার জিজ্ঞাসা করতে পারতেন কত শতাংশ তা না বলে আপনি একটা সাবজেক্ট বলে দিলেন তাতে আমার মাইন্ডটা জানা যাচ্ছে তবে আসলে তো এতে আপনার উদ্দেশ্যটাই বোঝা যাচ্ছে। এগুলো দয়া করে করবেন না।”
পরে ওই সাংবাদিক আবার দাবি করেন যে অডিও সমস্যা হচ্ছিল তাই শুনতে তিনি ভুল করেছেন। তখন মমতা বলেন, আমি তো আগেই জিজ্ঞাসা করে নিয়েছিলাম যে মাইকে সবাই শুনতে পাচ্ছেন কিনা তখন কেন বলেননি? কানে শুনতে পাচ্ছেন না যখন কানে মেশিন লাগান। স্পষ্ট ভাষায় ওই সাংবাদিককে সকলের সামনেই বলেন যে রাজনীতি যেন না করা হয়।
এরপরে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অর্থসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী জানান, ২০১১ সালে ৩০ শতাংশ ডিএ দেওয়া হয়েছিল। তারপর ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে যখন পে-কমিশন চালু করা হযেছিল, ১২৫ শতাংশ ডিএ হয়ে গিয়েছিল। তারপর ১২৫ শতাংশ ডিএ বেসিকের সঙ্গে যোগ করে ২.৭৫ গুণ করে বেতন দেওয়া হচ্ছে। মার্জড ডিএ এবং বেসিকের উপর ৩ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যেটা সংশোধিত পে-স্কেল, তার উপর দেওয়া হবে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে যে ওই সাংবাদিক এমনকি গুরুতর প্রশ্ন করেছেন যে এইভাবে সকলের সামনে মেজাজ হারিয়ে ফেললেন মমতা? রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশও জানালেন আসল সত্য। এমনিতেই সরকারি কর্মচারীদের সরকারের কাছে এখনও একুশ শতাংশ ডিএ বকেয়া রয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে তা বেড়ে চব্বিশ শতাংশ হবে। সেই তিন শতাংশের কথাই মমতা আজ ঘোষণা করলেন যা এমনিতেই সরকারি কর্মচারীরা পেতেন। তাই এই নিয়ে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ আর মমতা সেটা খুব ভাল করেই আঁচ করতে পারছেন। কারণ ভোটের আগে এই বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকার চাপে পড়তে পারে। তাই ওয়াকিবহল মহল মনে করছে ডিএ সংক্রান্ত এই অস্বস্তিকর প্রশ্ন ওই সাংবাদিক করতেই মেজাজ হারান মুখ্যমন্ত্রী।





