ধর্মান্তরিত না হলে ছেলে-মেয়ের উত্তরাধিকার পাবেন না! প্রয়াত ওয়াজিদ খানের স্ত্রী’র হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ কঙ্গনা রানাওয়াত

চলতি বছরেই হৃদরোগের আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক ওয়াজিদ খানের। তাঁর স্ত্রী কমলরুখ খান পেশায় একজন হিপনোথেরাপিস্ট।
সম্প্রতি লাভ জিহাদ নিয়ে তিনি নিজের ব্যক্তি জীবনের অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন।  জানিয়েছিলেন, কি ভাবে কলেজে পড়ার সময় থেকেই ওয়াজিদ খানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়। বছর দশেক আগে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট-এ তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরও তাঁরা নিজ নিজ ধর্মাচার পালন করবেন, এই বোঝাপড়াতেই তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁকে ওয়াজিদ খানের পরিবারের তরফে ধর্ম পরিবর্তন করার জন্য চাপ দেওয়া শুরু হয়।
তিনি ইসলাম ধর্মা ভুক্ত  হতে না চাওয়ায় এবার নাকি তাঁর ষোলো বছরের মেয়ে ও নয় বছরের ছেলের উত্তরাধিকার তাঁকে দিতে অস্বীকার করা হচ্ছে পরিবারের তরফে। কমলরুখ আর‌‌ও জানিয়েছেন, এমনকী ওয়াজিদের মত্যুর পরও তাঁর পরিবারের তরফে এখনও তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

কমলরুখের সংযোজন, ১৭ বছরের বিবাহিত জীবনটা কেমন কেটেছে তা বলে বোঝাতে পারব না। এ ভাবে ধর্মান্তকরণের জন্য ক্রমাগত চাপ দিতে থাকা যে কেমন মানসিক অত্যাচার, তা বলে বোঝাতে পারব না।

সম্প্রতি এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন প্রয়াত সঙ্গীত পরিচালক ওয়াজিদ খানের স্ত্রী কমলরুখ খান।
আর এবার এই বিষয়ে কমলরুখ পাশে পেলেন বলিউডের অন্যতম বিতর্কিত অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতকে। কমলরুখের পাশে দাড়িয়ে কঙ্গনা পার্সিদের অপমান করা হচ্ছে বলে মনে করছেন। আর এই ব্যাপারে তিনি এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। ঘটনাচক্রে কমলরুখ ধর্মে পার্সি।

কঙ্গনা টুইট করে লিখেছেন, আমাদের দেশের সত্যিকারের সংখ্যালঘু পার্সিরা। তাঁরা এই দেশ আক্রমণ করার জন্য আসেননি। এই দেশের সঙ্গে তাঁরা একাত্ম হয়ে গিয়েছেন। এ দেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে, অর্থনীতির উন্নয়নে তাঁদের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। আমার বন্ধুর পার্সি স্ত্রী কমলরুখকে যেন হেনস্থার মুখে আর না পড়তে হয়, সে ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আবেদন জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে প্রশ্ন করতে চাই, যে সংখ্যালঘুরা সহানুভূতি কুড়োনোর নাটক, মুণ্ডচ্ছেদ, দাঙ্গা, ধর্মবদল করায় না,তাদের সুরক্ষায় কী করা হচ্ছে? পার্সিদের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো কমছে।

RELATED Articles