“সামাজিক দূরত্ব বিধি শিকেয় উঠছে, আরও ট্রেন চালান”, রেলকে আর্জি মমতার

আটমাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গতকাল থেকে বাংলাতে শুরু হয়েছে লোকাল ট্রেন চলাচল। তবে মাত্র ৫০ শতাংশ ট্রেন শুরু হওয়ায় ইতিমধ্যেই বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভিড়। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে রোজ আরও বেশি সংখ্যায় লোকাল ট্রেন চালাতে নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে ট্যাক্সির ফিটনেস সংক্রান্ত জরিমানা নিয়েও বড়োসড়ো ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

লকডাউনের একদম গোড়ার দিক থেকেই লোকাল ট্রেন পরিষেবা বন্ধ ছিল গোটা দেশে। করোনা সংক্রমণের কথা ভেবে কোনভাবেই লোকাল ট্রেন পরিষেবা শুরু করার ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছিল না। অন্যদিকে লোকাল ট্রেন আমাদের দেশে শহরের সঙ্গে গ্রাম ও শহরতলীর মূল যোগাযোগ ব্যবস্থা। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিষেবা বন্ধ থাকায় রীতিমতো জীবনধারণের সমস্যা হচ্ছিল গ্রাম ও শহরতলির মানুষদের। যত সময় বাড়ছিল তত সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল লোকাল ট্রেন চলা বন্ধ থাকায়।অবশেষে পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি শাখায় কিছুসংখ্যক লোকাল ট্রেন চলাচল শুরু করা হয়েছে গত কালকে। কিন্তু এতদিন পর পরিষেবা শুরু হওয়ায় প্রয়োজনীয় সামাজিক দূরত্ব বৃদ্ধি রীতিমতো শিকেয় উঠেছে স্টেশনে স্টেশনে। এই সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন আরও বেশিসংখ্যক লোকাল ট্রেন চালানোর।

বুধবার নবান্নের সভাঘরের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই অতিমারির মধ্যে আজ থেকে ট্রেন চলা শুরু হয়েছে। কারণ সাধারণ মানুষের কথা ভেবেছি আমরা। তাঁদের রোজগারটাও মার খাচ্ছিল।”

এরপরই তিনি রেলের উদ্দেশ্যে বলেন যে আমরা রেলকে বলব বেশি সংখ্যায় ট্রেন চালাতে কারণ গাদাগাদি করে লোক উঠলে করোনা সংক্রমণ ছড়াতে পারে। যদি ট্রেন বেশি চলে তাহলে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে। দুটো ট্রেনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কমাতে হবে।

এরপরই মমতা আসেন বাস ও ট্যাক্সির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রসঙ্গে। তার মতে, ভিড় কমাতে অটো, বাস-ট্যাক্সির ভূমিকা আছে। অটো বাস এবং ট্যাক্সি মালিকরা তাদের সার্টিফিকেট অফ ফিটনেস ক্যাটাগরির ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে পেনাল্টি মুকুবের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। আমরা তা তিন মাস মুকুব করেও ছিলাম। এবার তাদের কথা ভেবে আমরা সেই পেনাল্টির মুখ সময়সীমা আগামী বছরের ৩০শে জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দিলাম।এই সময় পর্যন্ত তাদেরকে কোন পেনাল্টি দিতে হবে না।

বুধবার সকাল থেকেই পূর্ব, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বিভিন্ন স্টেশনে চোখে পড়ার মতো ভিড় ছিল এবং যত বেলা বেড়েছে তত সেই ভিড়ের পরিমাণ বেড়েছে।টিকিট কাউন্টার এর বাইরে লম্বা লাইন ছিল কিন্তু সকলেই সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনেছিলেন। স্টেশনে ঢোকার মুখে থার্মাল গান দিয়ে সকলের শরীরের তাপমাত্রা চেক করা হয়েছে এবং প্রত্যেকের মুখে মাস্ক আছে কিনা সেটাও দেখা হয়েছে।

আরও অন্যান্য খবর