উত্তরবঙ্গে সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, মঙ্গলবার তাঁর সেই সফরের শেষ দিন। এদিন শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিলেন ভূমি রাজস্ব দফতরের আধিকারিকরা। জমির পাট্টা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরকারি আধিকারিকদের কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভূমি রাজস্ব দফতরের কাজকর্ম নিয়ে এমনই ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে এই নিয়ে নানা নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরপরই এই দফতরের দিকে বাড়তি নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা।
এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে জমিহারাদের জমির পাট্টা বিলির কাজ চলছে। সরকারি উদ্যোগে এই কাজে কোনওরকম গরমিল পেলে BLRO-দের দিকেই অভিযোগের তীর উঠছে। তা নিয়েই এদিন শিলিগুড়ির সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কোনও কোনও BLRO দুষ্টু লোকদের সঙ্গে মিশে জমির পাট্টা নিয়ে দুর্নীতি করছে। জমির পাট্টা বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাচ্ছি। আমি মুখ্যসচিবকে বলছি, এঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে। যে কোনও দুর্নীতিতে কোনও সরকারি অফিসার যুক্ত থাকলে ছাড়া হবে না। কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে”।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, “কোনও রাজনৈতিক নেতার বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার হলে, তা ফলাও করে সংবাদমাধ্যমে দেখানো হয়। কিন্তু কোনও সরকারি আধিকারিক ঘুষ নিলে, তা চাপা পড়ে যায়। আমি বলছি, আমাদের রাজ্যে কোনও সরকারি আধিকারিক ঘুষ নিলে কিন্তু ছাড় পাবেন না। তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে সরকার”।
সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গে শিল্প সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পরই জমির দালালি শুরু হয়েছে। তাতে যুক্ত রয়েছেন একাংশ সরকারি কর্মীও। এ ব্যাপারে খবর পৌঁছেছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও। সে কারণেই তাঁর এই হুঁশিয়ারি। এদিনও শিলিগুড়ির সভা থেকে তিনি বলেন, “অনেকেই বলেন, উত্তরবঙ্গ অবহেলিত। আলাদা রাজ্য়ের দাবি তোলেন। কিন্তু উত্তরবঙ্গ আর অবহেলিত নয়। অনেক কাজ হয়েছে এখানে। আমরা কথা কম বলি, কাজ বেশি করি”।
কেন্দ্রকে তোপ দেগে এদিন মমতা বলেন, “এখন ভোট আসছে, কেন্দ্রের মনে পড়েছে বিনামূল্যে চাল দেওয়ার কথা। আমরা কিন্তু সারাবছর বিনামূল্যে রেশন দিই”।





