মমতার আপত্তি নস্যাৎ, নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি হবে বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসেই

অনেক আপত্তি তুলেছিলেন এই নিয়ে, কিন্তু তাঁর কোনও আর্জিই ধোপে টিকল না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিকে নস্যাৎ করেই নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি হবে বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসেই, এমনটাই সাফ জানিয়ে দেওয়া হল।

প্রসঙ্গত, বিচারপতি কৌশিক চন্দ আইনজীবী থাকার সময় বিজেপির সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে দাবী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কারণে বিচারে নিরপেক্ষতা থাকবে না এমন দাবী করে নন্দীগ্রাম মামলাটি এই বিচারপতি বেঞ্চ থেকে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানানো হয় কলকাতা হাইকোর্টে।

কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে কোনও আইনজীবী যদি বিচারপতি হন, তাহলে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী সম্মতি নিতে হয়।

মমতা জানান, কৌশিক চন্দ আইনজীবী থেকে বিচারপতি হওয়ার সময় তাঁর কাছে বার্তা গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই সময়ও তিনি আপত্তি তুলেছিলেন। কারণ, কৌশিক চন্দ সক্রিয় বিজেপি সদস্য ছিলেন। এই কারণে তাঁর বিচারপতি পদে আসীন করার সময় আপত্তি তোলা হয়। কিন্তু কৌশিক চন্দ ওসেই আপত্তি না মেনেই বিচারপতি হিসেবে শপথগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন- নিয়ম ভাঙলেন মুকুল রায়, জমা দিলেন পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদের মনোনয়ন, বিরোধিতায় বিজেপি

এরপর নন্দীগ্রাম মামলা যখন কৌশিক চন্দের এজলাসেই যায়, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে আবেদন করেন যে নন্দীগ্রামে লড়াই যেহেতু এক বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে আর নন্দীগ্রামের মতো এমন স্পর্শকাতর এমন মামলার শুনানি কৌশিক চন্দের এজলাসে হওয়া উচিত নয়। এতে মামলায় পক্ষপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু মমতার সেই আবেদন খারিজ হয়ে নন্দীগ্রাম মামলা কৌশিক চন্দের এজলাসেই হবে বলে জানা গিয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি রয়েছে।

বলে রাখি, একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়ান স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন বিজেপির প্রার্থী তথা মমতার এককালের সহযোদ্ধা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর কাছে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান মমতা।

এরপরই দাবী তৃণমূলের তরফে তোলা হয় যে ভোটগণনায় কারচুপি হয়েছে। তৃণমূলনেত্রীও এই নিয়ে সরব হন। এই অভিযোগ নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

RELATED Articles