সোমবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা চত্বর হঠাৎই যায় এক ঘটনায়। অনেকেই ভাবেন, নিছক কোনও হুলস্থুল পরিস্থিতি! কিন্তু একটু পরেই বোঝা যায়, বিষয়টা বেশ গুরুতর। প্রবীণ এক বিধায়ক আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন। তড়িঘড়ি ছুটে যান সহকর্মীরা, চেষ্টার কসরত শুরু হয়। এমন ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না বিধানসভার মতো জায়গায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজনৈতিক মহলেও।
জানা যায়, বলাগড় কেন্দ্রের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি আচমকা বিধানসভার লবিতে পড়ে যান। ঘটনার সময় তিনি একা একা নিজের কক্ষের দিকে যাচ্ছিলেন। লবি ছিল ফাঁকা, প্রায় শুনশান। সেখানেই হঠাৎই ভারসাম্য হারিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে যান তিনি। আশপাশের বিধায়করা আওয়াজ পেয়ে দৌড়ে এসে দেখেন, তিনি অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন।
ঘটনার সময় সেখানেই ছিলেন বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি। তিনি-সহ অন্যান্য বিধায়করা ছুটে আসেন, চোখে-মুখে জল দেন, ডাকাডাকি করেন মনোরঞ্জনবাবুকে জ্ঞান ফেরানোর জন্য। এমনকি কুলটি কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তথা চিকিৎসক ডা. অজয় পোদ্দারও ছুটে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক রহিমা মণ্ডল সহ আরও কয়েকজন।
বিধানসভার মেডিকেল ইউনিট খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। রক্তচাপ মাপতেই বোঝা যায়, স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি প্রেসার উঠেছে। রক্তে শর্করার মাত্রাও পরিমাপ করা হয়। বারবার জল দেওয়া, হাত-পা মালিশ করেও জ্ঞান ফেরানো যায়নি। শেষে সিদ্ধান্ত হয়, তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে জরুরি ভিত্তিতে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, হাই ব্লাড প্রেসারের ফলেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ঋত্বিক চক্রবর্তীর কটাক্ষ ‘কেশরী ২’-এর তথ্য বিকৃতি নিয়ে: “বিশ্বাসঘাতককে বীর বানাতে ওরা ওস্তাদ!”
সত্তরোর্ধ্ব এই তৃণমূল বিধায়ক শুধু বয়সের কারণে নয়, তাঁর খোলামেলা রাজনৈতিক মন্তব্যের কারণেও বহুবার শিরোনামে এসেছেন। কখনও দলের বিরুদ্ধে সরব হওয়া, কখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্রোহী পোস্ট—তাঁর স্পষ্টভাষিতা বারবার দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। এমনকি একবার দলেরই এক নেত্রীকে প্রকাশ্যে ‘অসৎ’ বলেও কটাক্ষ করেন। তবে এই মুহূর্তে তাঁর শারীরিক সুস্থতাই সকলের চিন্তার বিষয়। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন চিকিৎসকরা।





