মধ্যপ্রাচ্যে ফের একবার যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা! ইরানের মাটিতে মার্কিন হামলার ২৪ ঘণ্টা পর উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা বিশ্বরাজনীতি। এই ঘটনার জেরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে ইরান থেকে আমেরিকা, এমনকি ইজরায়েল পর্যন্ত। হোয়াইট হাউস সতর্ক করেছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন নাগরিকদের। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই মুখ খুলতেই গরমে ফুটছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গন।
রবিবার গভীর রাতে নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে বিবৃতি দেন আয়াতোল্লা খামেনেই। যদিও কারও নাম সরাসরি না নিলেও তাঁর বক্তব্য যে ইজরায়েলকে নিশানা করে, তা স্পষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে। তাঁর সাফ বার্তা— ‘জায়ানবাদী (Zionist) শত্রুরা বড় ভুল করে ফেলেছে। যেটা ওরা করেছে, তার শাস্তি ওদের পেতেই হবে।’ তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই সেই শাস্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলবে। তাঁর এই বার্তা ঘিরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
খামেনেই-এর এই কড়া বার্তা এসেছে ইরানের মাটিতে মার্কিন হামলার ২৪ ঘণ্টা পর। রবিবার রাতেই ইরানের ফরদো, নাতানজ ও ইসফাহান— এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায় মার্কিন বোমারু বিমান বি-২ (B-2 bomber)। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই হামলায় ওই পরমাণু স্থাপনাগুলিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও ইরানের তরফে এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানানো হয়নি। তবে খামেনেই-এর উপদেষ্টা আলি শামখানি হুমকি দিয়ে জানান, ‘পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে ঠিকই, তবে খেলা এখনও শেষ হয়নি।’
হামলার পরপরই সজাগ আমেরিকা। হোয়াইট হাউস-এর তরফে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে জারি হয়েছে সতর্কবার্তা। ট্রাম্প প্রশাসনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিদেশে অবস্থানরত সমস্ত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে সমস্ত সরকারি নির্দেশিকা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য ভালো করে পড়ে নিন।’
আরও পড়ুনঃ Breaking: বিধানসভা লবিতে পড়ে অজ্ঞান মনোরঞ্জন, তৎক্ষণাৎ অ্যাম্বুল্যান্সে করে এসএসকেএমে ভর্তি!
এই ঘটনার পর শুধু বিদেশে নয়, আমেরিকার ভেতরেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কতা বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলা অথবা ‘লোন উলফ’ (Lone Wolf Attack) ধরনের একক সন্ত্রাসমূলক ঘটনার মাধ্যমে প্রতিশোধ নিতে পারে। সেই কারণে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। ফলে স্পষ্ট, ইরান-আমেরিকা দ্বন্দ্ব নতুন করে এক বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে— যার প্রভাব পড়তে চলেছে গোটা বিশ্বের কাঁধে।





