*কলকাতা:* মুক্তির দু’মাস পর ফের বিতর্কে অক্ষয় কুমারের ছবি ‘কেশরী চ্যাপ্টার ২’ (Kesari Chapter 2)। ঐতিহাসিক তথ্য বিকৃতির অভিযোগে এবার এই হিন্দি ছবির বিরুদ্ধে দায়ের হল এফআইআর। কলকাতার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ছবির প্রযোজকের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগ, বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবীদের নাম ও ঐতিহাসিক ঘটনা বিকৃত করে দেখানো হয়েছে এই ছবিতে।
এবার এই নিয়ে নাম না করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে তিনি লেখেন,
> “শুনলাম ‘ছাপরি চ্যাপ্টার গু’ নামে এক হিন্দি সিনেমায় নাকি ইতিহাস বিকৃত হয়েছে! অবশ্য হিন্দি সিনেমা দেখে ইতিহাস শেখা ঠিক নয়। ওরা যে কোনো দিন ছাপ মারা এক বিশ্বাসঘাতককে বীর বলে চালিয়ে দেবে। পুনশ্চ:- এক বন্ধু জানাল সিনেমার নাম ভুল বলছি। আসল নাম নাকি ‘যুবা কেশরী- ফুঃ’।”
ঋত্বিকের এই পোস্ট ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। কেউ তার মন্তব্যকে সমর্থন করছেন, কেউ বা বলছেন—ছবির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসও ছবিটির বিরুদ্ধে সরব হয়। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন,
> “কেশরী চ্যাপ্টার ২ নামক ছবিতে বাঙালি বিপ্লবীদের বিকৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটা একেবারেই বরদাস্তযোগ্য নয়। ক্ষুদিরাম বসুর নাম বদলে বলা হয়েছে ‘ক্ষুদিরাম সিং’, বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে দেখানো হয়েছে ‘বারীন কুমার’। অথচ ঘোষ-বোসেরা স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রদূত ছিলেন! বাংলার বিপ্লবীদের নাম হিন্দি-করণ করে তাঁদের গরিমা ম্লান করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ছবির মুক্তি কীভাবে অনুমোদন পেল, তা খতিয়ে দেখা উচিত। আমরা অবিলম্বে এই ছবি সংশোধনের দাবি জানাচ্ছি।”
*কী রয়েছে অভিযোগে?*
বিধাননগর দক্ষিণ থানার ডিসি অনীষ সরকার জানান, “এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে ক্ষুদিরাম বসুকে ‘ক্ষুদিরাম সিং’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তিনি বিখ্যাত ইংরেজ বিচারক কিংসফোর্ডকে হত্যার চেষ্টায় ফাঁসির দণ্ড পান। তার সঙ্গী প্রফুল্ল চাকির কোনও উল্লেখ নেই। আবার বারীন্দ্রকুমার ঘোষের নামও বিকৃত করে বলা হয়েছে ‘বারীন্দ্র কুমার’। এমনকি তাঁদেরকে অমৃতসরের ছাত্র বলে দাবি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য।”
আরও পড়ুনঃ BSNL Q-5G Quantum 5G: বিএসএনএল আনছে 5G পরিষেবা, সিম ছাড়াই মিলবে দ্রুত ইন্টারনেট সুবিধা
*সিনেমাটি বর্তমানে জিও হটস্টারে স্ট্রিমিং হচ্ছে*। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ ভারতে নতুন কিছু নয়, তবে এবার বাংলার বিপ্লবীদের অপমান নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন শিল্পী ও রাজনৈতিক মহল—যার ঝাঁজ টের পাচ্ছে বলিউডও।





